সরকার জঙ্গিবাদের সমাধান চায় না বলে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা (বিএনপি) বারবার বলেছি জঙ্গিবাদ নির্মূলে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা প্রয়োজন। কিন্তু সরকার এটা চায় না। বরং এটাকে জিইয়ে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়।
শনিবার (২৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১০টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের উপর আলোকচিত্র প্রর্দশনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিদিনের ঘটনায় প্রচন্ড উদ্বিগ্ন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে গত এক সপ্তাহে যে তিন-চারটি ঘটনা ঘটেছে, আত্মঘাতী বোমা হামলাও হয়েছে। অথচ সরকার এ ব্যাপারে সুষ্পষ্ট কোনো বক্তব্যে নিয়ে আসছেন না। সংশ্লিষ্ট একেকটি প্রতিষ্ঠান একেক রকমের বক্তব্য দিচ্ছে। দেখতে পেয়েছি গতকালের আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় একদিকে বলা হলো- এটার সঙ্গে আইএস, অন্যদিকে বলা হচ্ছে এই ঘটনা পূর্বের ঘটনার মতো নয়। কাজেই প্রশ্ন থেকে যায়, যে মানুষটি আত্মঘাতী বোমাতে নিহত হলো সে কি নিহত হওয়ার জন্যই আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তাই এ ব্যাপারে বিশ্বাসযোগ্য বক্তব্য না আসলে জনগণের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হবেই।
তিনি বলেন, কোনো কিছু ঘটলেই আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত বিএনপিকে দোষারোপ করেন। অথচ জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা অনুসন্ধান না করে, সঠিক সত্য উদঘাটন না করে যদি এধরনের উক্তি করা হয় এবং যাদেরকে এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে গ্রেফতার করে হত্যা করা হয় তাহলে কোনো দিন সত্য প্রকাশিত হবে না।’
’বিএনপি বারবার দাবি জানিয়েছে যে, জঙ্গিবাদের সঠিক সত্য বের করুন, কারা এই জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত এবং মদদ দিচ্ছে। কারণ জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মোকাবেলা করতে না পারলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে। তাই সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে ঐক্য তৈরি করুন। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এই জঙ্গিবাদকে প্রতিহত করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর ভারত প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ’আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার মাসের পরপরই ভারত সফরে যাচ্ছেন। আমরা আশাবাদী ছিলাম যে, আমাদের পানির সমস্যা সমাধানের এজেন্ডা দেখতে পাবো। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেখছি এবং আমরা জানি না কি বিষয়ে আলোচনা হবে। কি চুক্তি হবে, কোন সমঝোতা স্মারক হবে। পত্রপত্রিকায় দেখছি সেখানে বলা হচ্ছে তিস্তার পানি চুক্তি হওয়ার কোনো রকম সম্ভাবনা নেই। তাহলে কি জন্য ভারত যাচ্ছেন তিনি (প্রধানমন্ত্রী)। আমরা কি ভারতকে সহায়তা করতে নাকি আমাদের সমস্যা সমাধান করতে যাচ্ছি। এখন যেটা আলোচনায় এসেছে সামরিক চুক্তি। অতীতের অভিজ্ঞতা এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ধরনের সামরিক চুক্তি বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত নয়। এবং এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। আর বিএনপি এ কারণেই বারবার বলছে, এখনও বলছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চুক্তি এদেশের মানুষ মেনে নেবে না। ’
২৫ মার্চকে গণহত্যাকে স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ’২৫ মার্চে ভয়াবহ গণহত্যা ঘটেছিল। এবং হাজার হাজার মানুষকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী হত্যা করেছিল। স্বাধীনতার যে দাবি উঠেছিল, মুক্তির যে দাবি উঠেছিল তাকে দাবিয়ে দিতেই এই গণহত্যা চালানো হয়। কিন্তু স্বাধীনতার আকাঙ্খায় এদেশের মানুষ দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। অথচ আজকে সেই বাংলাদেশের আইনের শাসন নেই। এমনকি কয়েকদিন ধরে যেসব ঘটনা ঘটছে তাতে করে মনে হয় বাংলাদেশের কোনো সরকার নেই।’
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ’’বৈদেশিক মুদ্রার কাজে নিয়োজিত সংক্রান্ত ফ্লোরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বেশকিছুদিন আগে এই সেই বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়ে যায়। পত্রপত্রিকা মারফত জানতে পারলাম যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে ব্যাংকে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং বাইরে কেউ জড়িত রয়েছেন। তাই সন্দেহ করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩ তলায় অগ্নিসংযোগ দেয়া হয়েছে।’
’২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের আলোকচিত্র জাতীয়তাবাদী যুবদল জীবন্ত করার চেষ্টা করেছে। এমনটি কথা মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল সেই প্রতিষ্ঠান যারা শহীদ জিয়ার আদর্শ, দর্শনকে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করে যাচ্ছে। এবং তারা মানুষের পক্ষে সর্বদা সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে’ বলেন ফখরুল।
তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশের দুঃসময়। মানুষ তার মৌলিক অধিকার গণতন্ত্র হারিয়ে ফেলেছে। জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। যেখানে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়ে ছিল সেখানে তিনি সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে জনগণ যখন তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্র পরিচালনা করবার জন্য তখন তিনি বাংলাদেশকে নতুন করে নির্মাণ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
জিয়াউর রহমান আজকের যে বাংলাদেশের ভিত্তি সৃষ্টি করেছিলেন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, যে গণতন্ত্রকে আওয়ামী লীগ লুণ্ঠন করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, জিয়াউর রহমান সেই গণতন্ত্রকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্রে রুপ দিয়েছেন। অবরুদ্ধ অর্থনীতিকে সচল করেছেন। মানুষের বাক স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছেন। দুর্ভাগ্য আজকের সরকার, আওয়ামী লীগ এবং কুচক্রীমহল জিয়াউর রহমানকে সঠিক মূল্যায়ন করতে চায় না বরং অবমাননা কর মন্তব্য করেন। অথচ ২৬ মার্চ যদি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন তাহলে স্বাধীনতা যুদ্ধ হবে শুরু হতো বলা যায় না। কারণ জাতি যেভাবে দিক নির্দেশনা শূন্য হয়ে পড়েছিল তখন কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব আহবান জানাননি।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র নেই দাবি করে তিনি বলেন, কোনো অধিকার নেই। কথা বললেই মামলা হয়, গ্রেফতার করা হয়। দলের কেউ আইন সম্মত ভাবে স্লোগান, মিছিল, প্রতিবাদ করতে গেলে তখন তাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বিগত দিনে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দলের দু’হাজারের ওপর নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক। আজকে মিছিল করতে দেয় না। সভা করতে পুলিশের অনুমতি নিতে হয়।
লেটেষ্টবিডি