বেগম খালেদা জিয়া গত বছর প্রথম ছয় মাসের জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকে তিনি বেশিভাগ সনয় বাসায় কাটিয়েছেন। এদিকে, তার জামিনের মেয়াদ কয়েক দফায় বৃদ্ধি করা হয়। আর এবার তার জামিনের মেয়াদ শেষের দিকে যাওয়ায় আবারও তার পরিবার থেকে অবেদন করা হয়। তার পরিবার থেকে বলা হয় বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো না থাকায় তার স্থায়ী মুক্তির কথা বলে। এছাড়া তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানানো হয়। এদিকে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয় নিয়ে একটি আবেদন করা হলে সেই আবেদনপত্র আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। অবশেষে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

দুর্নীতির দুই মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর বিষয়ে মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, তার (খালেদা জিয়া) দণ্ড স্থগিতের বিষয়ে আবেদন আমাদের (আইন মন্ত্রণালয়) কাছে এসেছিল। আমরা তার দণ্ড আরও ছয় মাস স্থগিতের বিষয়ে মতামত দিয়ে প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সে মতামতে আগের মতোই তিনি (খালেদা জিয়া) বিদেশে যেতে পারবেন না এবং বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিতে হবে বলে দুটি শর্তও দেওয়া হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর মতামত দেওয়া হলেও তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়নি। কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা দেশের বাইরে আছেন।’

গত মাসে খালেদা জিয়ার স্বজনরা সাজা স্থগিত ও মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই আবেদনের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত ও মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে।


উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া প্রথম থেকেই তার বাসায় বেশি সময় কাটান। তবে তার শরীরিক অবস্থা খারাপ হলে তাকে রাজধানী ঢাকা শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তার পরিবার থেকে কয়েকবার বলা হয় যে তার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো না তার উন্ন চিকিৎসার প্রয়োজন। সে জন্য বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার তাকে বিদেশে নেওয়ার কথা বলে। তবে এই বিষয়ে সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়া যায়নি। আর এবার বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ ফের বাড়ানো হয়েছে।