গত কয়েকদিন আগে ওমান থেকে বাংলাদেশে আসার পথে হঠাৎ করে বিমানের মধ্যে অসুস্থ হয়ে কপড়েন এক পাইল। আর এই পাইলটের নাম নওশাদ। তিনি অনেক অসুস্থ হয়ে পড়লেও তার দায়িত্ব থেকে সরে আসেননি। নিজে অসুস্থ হয়েও বিমানে থাকা যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনেন। তিনি বিমানে অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত বিমানটি ভারতে নামান। এরপর তিনি ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খচিলেন। তবে তিনি আর সুস্থ হয়ে দেশে ফেরতে পারেননি। এই পাইলটের বাবাও একজন পাইলট ছিলেন। বাবার দেখাদেখি তিনি ছোট থেকেই বিমানের পাইল হওয়ার ইচ্ছে পোশন করেন। এমনকি ছোট বয়সে তার বাবার ক্যাপ মাথায় দিয়ে ঘুরতেন। এবার তার সম্পর্কে বেশ কিছু কথা বলেছেন তার বাবার বন্ধু।


ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুমের সঙ্গে স্বজন, বন্ধু ও সহকর্মীদের অতীতের গল্পগুলো এখন শুধুই স্মৃতি। কয়েকদিন আগেও যার সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি আর কোনোদিন কথা বলবেন না। বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের বাড়ি থেকে গোসল করিয়ে, সাজিয়ে গুছিয়ে চির বিদায় দেওয়া হলো নওশাদকে। বন্ধুদের গল্পে থাকলেও তিনি আর কোনোদিন যোগ দেবেন না আড্ডায়।

ক্যাপ্টেন আব্দুল কাইয়ুমের একমাত্র ছেলে নওশাদ আতাউল। বাবাও এক সময় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন ছিলেন। ছোট বেলায় বাবার ক্যাপ মাথায় দিয়ে ঘুরতেন নওশাদ। সেই স্মৃতির কথা বললেন নওশাদের বাবার বন্ধু বদরুল আলম। তিনি বলেন, ’খুব শান্ত ছেলে, চুপচাপ থাকতো। ছোট থেকেই তার মধ্যে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন ছিল। বাবার ক্যাপ মাথায় দিয়ে ঘুরতো।’

বদরুল আলম বলেন, ’আমার বন্ধু কাউয়ুম মা’’রা গেলো এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি। নওশাদ এত দ্রুত চলে গেলো, আমাদের জন্য এটা ব’জ্র’পাতের মতো। আমি জানি না এই শোক কীভাবে তার পরিবার সইবে।’

নওশাদের স্কুলের বন্ধু নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী। উত্তরার বাড়িতে এসেছেন তিনি, বন্ধুকে শেষ বিদায় জানাতে। অমিতাভ রেজা বলেন, ’স্কুলে আমরা একসঙ্গে পড়তাম। সে খেলতে পছন্দ করতো, ফুটবল খেললে গোলকিপার থাকতো। ছোটবেলায় কাগজের বিমান বানিয়ে ঘুরতো।’

বন্ধুদের কাছে মিশু নামেই পরিচিত ছিলেন নওশাদ। তার আরেক ছোট বেলার বন্ধু খন্দকার মোহাম্মদ জিয়া বলেন, ’কারও কোনও বিপদের কথা শুনলেই সে এগিয়ে গিয়েছে। কাউকে কোনোদিনও খারাপভাবে কথা বলতো না। খুবই মিষ্টভাষী ছিল।’

খেতে ভালোবাসতেন নওশাদ। তার বন্ধু রানা বলেন, ’বাসায় আসার কথা বললেই বলতো কী খাওয়াবি। বিরিয়ানি পছন্দ করতো বেশি। কিছুদিন আগেই আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলো, কী রান্না করেছি? ছোট মাছ ছিল বলে আসেনি। হেসে বলে, ভালো খাবার না থাকলে বাসায় যাবো না।’

সহকর্মীদের কাছেও প্রাণবন্ত মানুষ ক্যাপ্টেন নওশাদ। বিমানের ডেপুটি চিফ অব ট্রেনিং ক্যাপ্টেন আনিস আহমেদ বলেন, ’একজন পাইলট তৈরি হতে ১০-১৫ বছর লেগে যায়। তার নেশার মধ্যে ছিল ফ্লাই করা। তার মতো পাইলটের চলে যাওয়ায় বিমান সম্পদ হারিয়েছে।’

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-০২৬ ফ্লাইটে ক্যাপ্টেন নওশাদের নিথর দেহ ঢাকায় আসে। তার মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটের পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন আহমেদ ইমরান। তিনি বলেন, ’তার মতো মানুষকে আমরা সব সময় মিস করবো। বিমানের জন্য সে ছিল সম্পদ। একজন দক্ষ পাইলটকে শুধু হারায়নি, একজন ভালো মানুষকেও হারিয়েছি আমরা।’


উল্লেখ্য, এই পাইলট নওশাদের বাবাও ভারতের একটি হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। তিনি বেশ কিছু দিন ভারতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মাত্র কয়েক মাস আগে তার বাবা না ফেরার দেশে চলে যান। আর এবার তিনিও ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার এমন চলে যাওয়া তার বরিবার এখনো মেনে নিতে পাড়ছেন না। বাংলাদেশে তিনি একজন দক্ষ পাইলট ছিলেন। তার হসকর্মীরা তার এমন চলে যাওয়া এখনো মানতে পাড়ছেন না। তিনি তার দক্ষতায় এর আগেও কয়েশত মানুষকে নিরাপদে নামিয়ে আনেন।