গত কয়েক মাস থেকে দেশে কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিকে নিয়ে আলোচনা শে’ষ না হতেই ফের আরও একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আর এই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি হল ই-অরেঞ্জ। এই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অসংখ্য গ্রাহক একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বর্তমানে একের পর এক অভিযোগ উঠে আসছে। এমনকি একটি গ্রায় থেকেই এই ই-অরেঞ্জ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যে সজক ব্যক্তিরা ই-অরেঞ্জকে অর্থ দিয়েছে তারা এখন মাথায় হাত দিচ্ছেন। কারণ তাদের শে’ষ অর্থ টুকু ই-অরেঞ্জ দেওয়া হয়েছিল।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জে বিনিয়োগ করে টাঙ্গাইলের সখীপুর গ্রামের প্রায় কয়েক শতাধিক গ্রাহক সর্বস্বান্ত হয়েছেন। দ্বিগুণ মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এই গ্রামের মানুষদের থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ইছাদিঘী গ্রামে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওই গ্রামের ১০০ জন গ্রাহক ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে ঢাকার গুলশান থানায় ও ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, ওই গ্রামের কৃষক, দিনমজুর, ভ্যান চালক, প্রবাসী, প্রবাসীর স্ত্রী, চায়ের দোকানদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কমপক্ষে দুই শত গ্রাহক ই-অরেঞ্জে বিনিয়োগ করেছেন। এদের প্রকৃত বিনিয়োগকৃত মূলধন প্রায় ১৫ কোটি টাকা। সে হিসেবে ই-অরেঞ্জের কাছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার পণ্য পাওনা রয়েছেন তাদের। ইছাদিঘী গ্রামের মোহাম্মদ আলী আজাদের ছেলে নাসিদুল ইসলাম প্রথমবার ই-অরেঞ্জে ৯১ হাজার টাকা করে ৬টি মোটরসাইকেল অর্ডার করেন। প্রতিটি মোটরসাইকেল ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে বিক্রি ভাউচারের মাধ্যমে ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু এবার তার ধরা ১৮ লাখ টাকা।

পাঁচ বছর আগে জাহানারা বেগমের স্বামী মা’’রা গেছেন। কলাবাগানে শ্রমিকের কাজ করে তার সংসার চলে। দ্বিগুণ লাভের আশায় তিনিও সঞ্চয় করা ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এভাবে ওই এক গ্রামেই দুই শতাধিক গ্রাহক ই-অরেঞ্জে বিনিয়োগ করে প্রায় ১৫ কোটি টাকা প্রতারিত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে ওই গ্রামের বাসিন্দা গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল কালাম আজাদ একটি বেসরকারি টেলিভশনকে জানান, আমাদের গ্রাম থেকে আনুমানিক হিসেবেই দুই শতাধিক মানুষ প্রায় ১৫ কোটি টাকা ওই প্রতিষ্ঠানে জমা দিয়েছেন। ভুক্তভোগী নাসিদুল বলেন, আমরা যে অনলাইন গেটওয়ে (এসএসএল কমার্স) ব্যবহার করে টাকা জমা দিয়েছি। ই-অরেঞ্জ কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন, পণ্য ডেলিভারি না দিতে পেরে রিফান্ড করার অর্ডার দিলে আমরা জুন মাসের টাকাগুলো গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া যাবে।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে সাইদুল হক ভূঁইয়া বলেন, সখীপুরের এত লোক প্রতারিত হয়েছে তা জানা ছিল না। প্রতারিত হওয়া ব্যক্তিরা এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও অসংখ্য গ্রাহক এই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ তুলছেন। অনেকে জমি জমা বিক্রি করে সেই অর্থ এই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে দিয়েছে। তবে এখন ওই সকল ব্যক্তিরা হতাশায় ভুগছেন। তার এখন তাদের সেই সকল অভিযোগ তুলে ধরছেন। তেমনি এই গ্রামের কয়েক শত মানুষ এই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে অর্থ দিয়ে ধরা খেয়েছেন। তারা এখন তাদের সেই অর্থ কিভাবে ফিরে পাবেন সেই চিন্তা করছে।