বাংলাদেশ থেকে প্রায় সময় অনেকে ভারতে গিয়ে নানা রকম ঝামেলার শি’কার হন। এমনকি প্রায় সময় শোনা যায় বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে নানা রকম সমস্যার মধ্যে পড়েন। এছাড়া অনেক সময় কিছু দরিদ্র মানুষ ভারতে গিয়ে পা’চারকারীদের হাতে পড়েন। যার কারণে আরও বেশি সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। ওই সকল ব্যক্তিদের। আর তেমনি এক দম্পতি ভারতে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা নাকি অ’বৈধ ভাবে ভারতে গিয়েছেন। অবশেষে ওই বাংলাদেশি দম্পতি দেশে ফিরেছেন। তাদের সম্পর্কে এবার বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ পেল।
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের পুনে শহরের ফরাসখানা পুলিশ স্টেশনে বিগত ৮০ দিন ধরে অবস্থানরত এক বাংলাদেশী দম্পতিকে রবিবার সকালে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ভারতে অ’বৈধভাবে দুই বছর থাকার জন্য কারাদণ্ড ভোগ করে ইয়ারাওয়াড়া কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মোহাম্মদ জুনাব মণ্ডল (৩১) এবং তার স্ত্রী মাজিদা (২৮) থানা প্রাঙ্গণে বসবাস করছিলেন। বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ তাদের নাগরিকত্ব, জরুরি ভ্রমণ সার্টিফিকেট (ইটিসি) যাচাই-বাছাইয়ের কারণে ওই দম্পতির বাড়ি ফেরা স্থগিত ছিল।

ফরাসখানা পুলিশের সিনিয়র ইন্সপেক্টর রাজেন্দ্র টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে বলেন, "শুক্রবার, বাংলাদেশ হাইকমিশন নাগরিকত্ব যাচাই করে ইটিসি জারি করেছে। রবিবার ভোরে পুনে পুলিশের দুই সদস্যের একটি দল জুনাব এবং মাজিদাকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতার ট্রেনে চড়েন। দলটি তাদের যাবতীয় নথিপত্র সহ বাংলাদেশ সীমান্তে দিয়ে আসবে।"

উল্লেখ্য, খুলনার অধিবাসী দরিদ্র ওই বাংলাদেশি দম্পতির এক বন্ধু কাজ দেয়ার আশা দেখিয়ে ২০১৯ সালে তাদের ভারতে যেতে অনুরোধ করেন। কিন্তু পা’’চারকারীদের খপ্পড়ে পড়া জুনাব পুলিশের অভিযানে আটক হন। ওদিকে মাজিদাকে পা’’চারকারীরা একটি কক্ষে আটকে রেখে বলেছিল, তিনি যদি স্বামীকে জেল থেকে মুক্ত করতে চান, তাহলে তাকে দে’’হ’’’ব্যবসায় জড়িত হতে হবে। ঘটনাচক্রে মাজিদা মুক্ত হতে পারলেও যেহেতু তিনি জুনাবের সাথে ভারতে ’অ’’বৈধভাবে’ প্রবেশ করেছিলেন, সেহেতু পুলিশ তাকেও আটক করে।

আদালতে দুজন দোষ স্বীকার করলেও তাদের দুই বছর তিন মাস করে জেল হয়। ওই সাজার মেয়াদ শেষ হয় চলতি বছরের ১৬ জুন।

আদালত দম্পতিকে কাগজপত্র সংগ্রহ করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো পর্যন্ত ফরাসখানা থানা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। যে কারণে গত ১৬ জুন থেকে মাজিদা ও জুনাব ফরাসখানা থানা হেফাজতেই ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রায় সময় দেশের বিভিন্ন বিভিন্ন সীমান্ত থেকে সংবাদ উঠে আসে যে কিছু অসাধু ব্যক্তি সাধারণ মানুষদের চাকরির কথা বলে অবৈধ ভাবে ভারতে পাচার করে। তবে দরিদ্র ঘরের মানুষরা এই সকল সসম্যার মধ্যে পড়েন যার কারণে অনেক সময় এই সকল ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না। এছাড়া নারীদের সব থেকে বেশি ভারতে পা’চার করা বলে সংবাদ উঠে আসে। আর এবার এই বাংলাদেশি দম্পতি দীর্ঘদিন ভারতে থাকার পর দেশে ফিরেছেন।