গত বছর থেকে দেশের অর্থনীতির অবস্থা খুব একটা ভালো না। এমনকি দেশে অসংখ্য ছোট বড় ব্যবসায় এই সময় নানা রকম ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য ছোট ব্যবসায়ী এই পরিস্থিতে ঋণ করা অর্থ সঠিক সময়ে ফেরত দিতে পারছেন না। যার কারণে ঋণ গ্রহীতাদের প্রায় সময় চাপ দিচ্ছে এনজিও কর্মীরা। এমনকি সঠিক সময়ে ঋণের অর্থ ফেরত দিতে না পারায় এনজিও কর্মীরা অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এমনকি ঋণের অর্থ ফেরত দেওয়ার পরও অনেক কে হয়রানির শি’কার হতে হচ্ছে। এবার তেমনি এক মামলায় আটক হয়েছেন এক নারী। ওই নারীকে আটকের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে। কারণে বাড়িতে তার শিশু সন্তান রয়েছে।

গাজীপুরের শ্রীপুরের বারতোপা বাজারের একটি কাপড়ের দোকানি নুরুল আমীন। তার স্ত্রী শাহনাজ পারভীন স্বামীকে সহায়তার জন্য ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) নামে একটি এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ নিয়েছিলেন। যা মেয়াদান্তে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল।

শাহনাজ পারভীন ঋণের সমস্ত টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন স্বামীর ব্যবসায়। প্রতি মাসে ৯ হাজার ৫০০ টাকা করে কিস্তিও পরিশোধ করতেন নিয়মিত। এক সময় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতায় দুটি কিস্তি দিতে ব্যর্থ হন। পরে এনজিওকর্মীর পীড়াপীড়িতে দুই মাস পরই দুটি কিস্তি দিয়ে ঋণ পরিশোধ করেন শাহনাজ। তবুও এনজিওর মামলার ফাঁদে আটকে গেছেন তিনি।

সোমবার (২৬ জুলাই) বিকেলে ছয় মাসের দু’গ্ধপোষ্য শিশুকে রেখে পরোয়ানা মূলে শাহনাজ পারভীনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এরপর থেকেই মায়ের জন্য কাঁ’দছে শিশুটি।

শাহনাজের স্বামী নুরুল আমীন বলেন, আমরা ঋণ গ্রহণ করে পরে দুটি কিস্তি পরিশোধ করতে কিছুটা সময় লাগে। দুই মাস পরই ঋণের টাকা পরিশোধ করি। এ সময় এনজিও আমাদের ঋণ পরিশোধের প্রত্যয়নও দেয়। যদিও পরে তারা আমার স্ত্রীর নামে মামলা করেন। এ মামলার বিষয়ে আমরা কেউ কিছু জানতাম না। হঠাৎ করে আজ শ্রীপুর থানা পুলিশ গিয়ে আমার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, সমস্যা হয়েছে আমার ছয় মাসের শিশু ফাতেমার জন্য। সে এখনও তার মায়ের দুধ ছাড়া কিছুই খায় না। বিকেল থেকেই মায়ের জন্য সে কা’ন্নাকাটি করছে। এমন পরিস্থিতিতে পড়বো ভাবতেই পারিনি।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) গোলাম সারোয়ার বলেন, এনজিওর মামলায় আদালতের পরোয়ানা মূলে ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগামীকাল তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে টিএমএসএসের শ্রীপুর-১ শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুল আলীম বলেন, শাহনাজ পারভীন নামে বর্তমানে আমাদের কোনো সদস্য নেই, তবে আগে ছিল। তখন আমি এ শাখার ব্যবস্থাপক ছিলাম না। তার কাছে আমাদের কোনো দেনা পাওনা নেই। তবে তার বিরুদ্ধে কেন মামলা হলো তা আমি বলতে পারব না। আমার আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন বিষয়টি তার জানা থাকতে পারে।

টিএমএসএসের গাজীপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আতাউর রহমান বলেন, মামলা ও নারীকে গ্রেফতারের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। জরুরিভাবে স্থানীয় ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম বলেন, এনজিওর ঋণের টাকা পরিশোধের পরও মামলা ও দু’গ্ধ’পোষ্য শিশু রেখে একজন নারীকে গ্রেফতার সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদিকে, এই সংবাদ প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। অনেকে বলছেন ওই এনজিও’র বিরুদ্ধে এবার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাদের কে ঋণের অর্থ দেওয়ার পরও কেন তারা ওই নারীকে গ্রেফতার করার আদেশ প্রত্যাহার করেনি। বর্তমানে এই বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে গতকাল রাত থেকে কান্না করছে সেই শিশুটি। এই সময় তার বাবাও কি করবনে তা ভেবে পাচ্ছে না। সবাই ওই নারীকে দ্রত মুক্তি দেওয়ার কথা বলেছে।