প্রায় সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু অসাধু পুলিশের বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ উঠে আসে। এমনকি কিছু অসাধু পুলিশ ব্যবসায়ীদের নানা ভাবে হয়রানি করে এমন অভিযোগও উঠে আসে। এবার তেমনি পরিদর্শক ও এসআইয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। তাদের দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা নাকি ব্যবসায়ীর কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করেছে। এই অভিযোগ ওঠার পর তাদের দুজনের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়। অবশেষে পরিদর্শক ও এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বগুড়ায় এক বিড়ি ব্যবসায়ীকে মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ডিবি পুলিশের সাইবার ইউনিটের ইনচার্জ পরিদর্শক ও উপপরিদর্শকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার অভিযুক্ত উপপরিদর্শক শওকত আলমকে সাময়িক বরখাস্ত ও পরিদর্শক এমরান মাহমুদ তুহিনকে রাজশাহী রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত করা হয়। পরে রবিবার তাদের রাজশাহীর রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে বদলি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দারের নেতৃত্বে তিন সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পুলিশ সুপার (এসপি) আলী আশরাফ ভুঞা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ’ব্যবসায়ীর লিখিত অভিযোগ ও তদন্ত কমিটি সত্যতা পাওয়ায় দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

তবে অভিযুক্তরা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে বলেছেন, এটা তাদের বিরুদ্ধে ষ’ড়’য’ন্ত্র।

অভিযোগে জানা গেছে, ডিবি পুলিশের সাইবার ইউনিটের ওই দুই কর্মকর্তা গত ২৭ মে বগুড়া সদরের শিকারপুর গ্রামে মাস্টার বিড়ি ফ্যাক্টরিতে যান। সেখানে বিপুল পরিমাণ জাল ব্যান্ডরোল আছে অভিযোগ করে মালিক হেলালকে ডাকা হয়। গুদামে ব্যান্ডরোল থাকলেও হেলাল সেগুলো বৈধ দাবি করেন। পুলিশ কর্মকর্তারা ব্যান্ডরোলসহ ওই ব্যবসায়ীকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। এক পর্যায়ে বলেন, পুলিশ সুপারকে ম্যানেজ করতে পারলে মামলা হবে না। বিনিময়ে দুই কোটি টাকা দাবি করা হয়। ব্যবসায়ী হেলাল ২৫ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। তাৎক্ষণিকভাবে ১০ লাখ টাকা ও এক সপ্তাহ পরে অবশিষ্ট ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা হয়। ব্যবসায়ী হেলাল নয় লাখ টাকা সংগ্রহ করে রাতেই পুলিশ কর্মকর্তাদের দেন।

পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়ী হেলাল অবশিষ্ট টাকা দিতে টালবাহানা ও অপারগতা প্রকাশ করেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের চাপে বিব্রত ওই ব্যবসায়ী গত ১৩ জুলাই বিষয়টি পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবসায়ীকে তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন। বিস্তারিত শোনার পর তার কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ নেন। এসপি জেনে যাওয়ায় পুলিশ কর্মকর্তারা চাঁ’দাবাজির ওই নয় লাখ টাকা ফেরত দেন।

পুলিশ সুপার পরদিন এ ঘটনা তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দার চৌধুরীকে প্রধান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবদুর রশিদ ও কোর্ট পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জীকে সদস্য করে কমিটি গঠন করেন। কমিটি ত’দন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় শনিবার রাতে অভিযুক্ত সাইবার পুলিশের উপপরিদর্শক শওকত আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করে বগুড়া পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড এবং পরিদর্শক এমরান মাহমুদ তুহিনকে রাজশাহী রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত করেন। রবিবার দুজনকে রাজশাহীর রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে বদলি করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, ব্যবসায়ীকে মামলার ভ’য় দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় বগুড়া ডিবি পুলিশের সাইবার ইউনিটের এই দুই সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সূত্র:banglatribune

উল্লেখ্য, এর আগেও প্রায় সময় কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠে এসেছে। আর তাদের কারণে দেশের পুলিশ বাহিনীর সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে খারাপ ভাবনা আসে। এমনকি কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার জন্য পুরো পুলিশ বাহিনীর বদনাম হয়। আর এবার এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে এসেছে যে তারা ব্যবসায়ীকে ভয় দেখিয়ে অর্থ চান। এই এই অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাদের দুজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।