ক্ষমতা মানুষকে ধ্বংস করে ফেলে, হাসিনাই তার প্রমাণ : পিনাকী

আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা থেকে একনায়কতন্ত্রের রাজত্ব কায়েম করেছে। আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে একের পর এক অপকর্মকাণ্ড চালিয়েছে। যার দায় ভোগ করতে হচ্ছে দেশের সাধারন মানুষকে। লাগামহীন দুর্নীতি ও লুপাটের কারনে দেশের অর্থনীতে হুমকির মুখে পড়েছে। কিন্তু কিছু শ্রেণীর মানুষ নিজেদের সুবিধার জন্য সরকারকে তেল মারছে। তবে সরকার বুঝতে পারছে যে তার আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না সে জন্য ভিন্ন পথে অগ্রসর হওয়া চিন্তা করছে। বিষয়টি নিয়ে সা/মাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ/কটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন পিনাকী ভট্টাচার্য হু/বহু পাঠকদের জন্য নি/চে দেওয়া হলো।

যার বলার কথা আছে সে বলতে চাইবে। কখনো লিখে, কখনো আকিয়ে সে তার ভাবনাগুলোকে ভাষা দেবে।

আমি মুলত লেখক ছিলাম। আমি লিখতাম। আমি ক্যামেরা ভয় পাই, আমি অভিনয় জানিনা। ক্যামেরার সামনে আমি আড়ষ্ট হয়ে যাই আর সবার মতোই। আজ হয়েছি ইউটিউবার।

আমার লেখা বই প্রকাশক ছাপেন না। এমনিতেই বইয়ের দোকান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, বইয়ের পাঠক কমছে তার উপরে রকমারি বলে একটা প্লাটফর্ম ছিলো, সেও বিনা কারণে ভয়ে আমার বই নামিয়ে দিলো। একটা বই লিখে তারপরে সেটা ফেইসবুকে প্রচার করে ইনবক্সে অর্ডার নেয়াটা একজন লেখকের জন্য অপমান আর তার ক্রিয়েটিভ সময়ের অপচয়।

আমি হয়তো বাংলা ভাষার কোন উল্লেখযোগ্য লেখক না, কিন্তু হয়ে উঠতে পারতাম। আমি আর সম্ভবত বাংলা ভাষায় আর লিখবো না।
আমি জানি হাসিনার পতনের পরে আমার প্রকাশকের অভাব হবেনা। রকমারিও মহাসমারোহে আমার বই বিক্রি শুরু করবে, পাঠকও পড়তে চাইবেন আমার লেখা; কিন্তু লেখার জন্য যে উৎসাহ লাগে সেটা মরে গেছে। আমার সাথে বাংলাদেশের প্রকাশনা ও পরিবেশকেরা যে অন্যায় করেছে এইটার জন্য একদিন তারা পস্তাবে। আমার বই না প্রকাশ করার জন্য নয়। সেই ইন্ডাস্ট্রি টেকে না যে বৈচিত্র্যকে ধারণ করতে পারেনা।

যদি কখনো বই লিখিও তবুও বাংলাদেশে আমার কোন বই ছাপা হবেনা। বাংলা ভাষাতেও আর লিখবো না। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ বইয়ের দ্বিতীয় খন্ড আমি আর লিখছি না। অন্য কেউ লিখবে। সবাই সব কাজ কর‍তে পারেনা।

আমি একদিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কখনো ডাক্তারি করবো না। একদিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বাংলাদেশে চাকরি করবো না কখনো। অথচ আমি জানি, চাইলে আমি বাংলাদেশের একজন দুর্দান্ত ডাক্তার হতে পারতাম, আমি বাংলাদেশে একজন ফাইনেস্ট এক্সিকিউটিভ হতে পারতাম। আমি জানি আমি হয়তো বাংলা ভাষার একজন অন্যতম প্রধান লেখক হতে পারতাম। আমি ডাক্তার হলে, এক্সিকিউটিভ হলে, নিছক লেখক হলে আজকের ইউটিউবার হতে পারতাম না। কারণ আমি ইউটিউবিং করতামই না। আমি বাংলাদেশ না ছাড়লে জানতামই না দুনিয়াকে আমার দেয়ার আর কী কী আছে?

আমি সেইজন্য আমার সামনে যারা পর্বতপ্রমাণ বাধা তৈরি করেছিলো তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। মানুষ নিজেকে আবিষ্কার করতে পারেনা যদি না তার সামনে পর্বতপ্রমাণ বাধা না আসে। বছরে একটা বা দুইটা বই প্রকাশিত হতো আর আজ মিলিয়ন মানুষ প্রত্যেকদিন আমার কথা শোনে, অপেক্ষা করে শোনার জন্য।
আমাকে অনেকেই বলেন রাজনীতি করতে। এইটা আমার কাজ না। নট মাই কাপ অব টি। হাসিনার পতনের পরে আমি পরবর্তী সরকারকে সাহায্য করবো যদি তারা কোন সাহায্য আদৌ চায়। পরবর্তী সরকারের জন্য আমার শুভকামনা থাকবে। কিন্তু আমি কখনো ক্ষমতার অংশ হবোনা। পাওয়ার করাপ্ট করে মানুষকে। ক্ষমতা মানুষকে ধ্বংস করে ফেলে। হাসিনাই তার প্রমাণ। সে যতো ক্ষমতাবান হয়েছে ততোই সে মানুষের মন থেকে মুছে গেছে।

কয়েকদিনের ক্ষমতার চাইতে মানুষের মনে জাগরুক থাকা অনেক বেশী গৌরবের। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যেন আমার মৃত্যুর পরেও বলে। আমাদের একজন পিনাকী ছিলো। যে কখনো সাধারণ মানুষকে ছেড়ে যায়নি। সে তার সারাটা জীবন জনগনের পক্ষে থেকে জালেমদের বিরুদ্ধে লড়েছে। কোন ভয় কোন লোভ তাকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, সরকারের লুটপাট দুর্নীতির কারনে দেশের যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে মন্তব্য করেন পিনাকী ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এই সরকারে হাত থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *