সন্তান নিয়ে ক্লাসে স্কুলছাত্রী, কোলে নিয়ে ক্লাস নিলেন শিক্ষক, প্রশংসায় ভাসছেন শিক্ষক

দেশে চলমান খারাপ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। তবে আবারো দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্থান খোলা হয়েছে। এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থানে গত বছরে অসংখ্য স্কুল ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে। বিয়ে হওয়ার পর অনেক স্কুল ছাত্রী মা হয়েছেন। তবে এবার এক স্কুলছাত্রী তার সন্তানকে নিয়ে স্কুলে গেলেন। আর সেই স্কুল ছাত্রীর সন্তানকে কোলে নিলেন শিক্ষক ক্লাস করিয়েছেন। আর এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এই ঘটনা সম্পর্কে এবার বিস্তারিত জানা গেল।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ে রবিবার থেকে দশম শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হয়েছে। ভিন্ন এক কারণে এখন সেটি আলোচনার খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রেণি কক্ষে সন্তান নিয়ে হাজির হয়েছেন এক ছাত্রী। আর ওই সন্তানকে কোলে নিয়ে ক্লাস নিয়েছেন শিক্ষক।

এ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সবার নজরে পড়ে। অধিকাংশ নেটিজেনরা এ ঘটনায় শিক্ষকের প্রশংসা করেছেন। তবে ওই স্কুলছাত্রীর বা”ল্য বিয়ে হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কড়া সমালোচনা করেছেন অনেকে।

মোবাইল ফোনে কথা হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক পঙ্কজ কান্তি প্রতিবেদকে বলেছেন, ‘মেয়েটি পড়াশুনা থেকে যেন উৎসাহ হারিয়ে না ফেলে সে কারণে আমি তার সন্তানকে কোলে নিয়ে পড়িয়েছি। আমি চাই মেয়েটি পড়াশুনা চালিয়ে যাক। ওই মেয়ের সন্তানকে আদর করতে গিয়েই আমি কোলে নিয়ে ক্লাস চালিয়ে গেছি।’

বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন স্থানীয় এক যুকক। রবিবার দুপুরে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালাচ্ছেন চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক পঙ্কজ মধু স্যার। সন্তান কোলে নিয়ে পাঠে মনযোগী হতে না পারা শিক্ষার্থীর সুবিধার্থে তিনি এ কাজ করেছেন। স্যারের প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি, ভালোবাসা।’

তিনি আরো লিখেছেন, ‘কিন্তু, আমাদের গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে এখনো পুরোপুরিভাবে বা”ল্য বিয়ে রোধ সম্ভব হচ্ছে না। এর পুরোপুরি দায় নিতে হবে ইউনিয়ন পরিষদ অর্থাৎ মেম্বার চেয়ারম্যানের, পরিষদে কর্মরত উদ্যোক্তা, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে। নিকাহ রেজিস্ট্রারও এর দায় এড়াতে পারে না। দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী নিশ্চয় ১৮ বছর কিংবা ততোর্ধ্ব না।’

এদিকে, এই যুবকের শেয়ার করা পোস্টি আরও অনেকে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন। অনেকে ওই শিক্ষকের প্রশংসা করছেন। তবে অনেকে বলছেন এমন বিয়ে যেন আর না হয় সেই দিকে স্থানী প্রশাসনকে নজর দিতে হবে। এছাড়া এই শিক্ষকের ছবি দেখে অনেকে বলছেন স্যারের প্রতি আরও রেস্পেক্ট বেড়ে গেলো। বর্তমানে এই ঘটনা নিয়ে ওই স্কুলের শিক্ষকের প্রশংসা করছেন। একই সঙ্গে তার জন্য অনেকে প্রার্থনা করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *