নিয়মের কথাই বলেছি, তার মূল্যমান অবশ্যই দিতে হবে : শাওন

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী মেহের আফরোজ শাওন। এই অভিনেত্রীকে দীর্ঘ কয়েক বছর কোনো অভিনয়ে দেখা যায় না। তবে প্রায় সময় তিনি নানা বিষয় নিয়ে কথা বলে আলোচনায় আসেন। এদিকে, বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ গত কয়েক বছর আগে না ফেরার দেশে চলে গেলেও এখনো তার লিখা গল্প নিয়ে এখনো প্রায় সময় সিনেমা তৈরি করা হচ্ছে। তবে প্রায় সময় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের পরিবার থেকে এই বিষয়টি নিয়ে কথান বলা হয়। তেমনি এবার হুমায়ূন আহমেদের গল্প নিয়ে একটি সিনেমা তৈরি করার কথা ওঠে। কিন্তু তার পরিবারের লোকদের শর্তের কারণে নির্মাতা অমিতাভ রেজা সিনেমা নির্মান করা থেকে সরে আসেন। এবার এই বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন অভিনেত্রী ও কন্ঠশিল্পী শাওন।

অমিতাভ রেজা যখন অনুদানের জন্য চিত্রনাট্য জমা দেন, তখন অনুমতি নেননি?

লিখিত অনুমতি নিয়েছেন। লিখিত অনুমতি আর লিগ্যাল অনুমতি এক জিনিস নয়। তিনি যে লিখিত অনুমতি নিয়েছেন, সেটা তো আমরা এখনও দিতে রাজি। লিখিত অনুমতিতে কপিরাইট ভ্যালুর বিষয়টি ছিল না। প্রাথমিক অনুমতি নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করা যায় না। নির্মাণের আগে দু’পক্ষের পাকা কন্ট্রাক্ট হবে। সেখানে কপিরাইট ভ্যালুর সবকিছু উল্লেখ থাকবে। লেখক, কবি বা চিত্রশিল্পী, যিনিই হোন না কেন; তার শিল্পকর্মের একটি মূল্য থাকে। সে মূল্য হয় শিল্পী নিজে তৈরি করেন, আর তিনি না থাকলে তার উত্তরাধিকারীরা ঠিক করেন। সে ক্ষেত্রে হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সবাই মিলে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ছবির বাজেট নিয়েও তো কথা হয়েছে…

অমিতাভ রেজা ’পেন্সিলে আঁকা পরী’র মতো একটি গল্প যে বাজেটে নির্মাণ করতে চেয়েছেন, সেটি আমাদের মনঃপূত হয়নি। তিনি গুণী একজন নির্মাতা। তার ’আয়নাবাজি’ ও ’রিকশা গার্ল’ সিনেমার বাজেট অনেক বড় ছিল। হুমায়ূন আহমেদের গল্পটা তো আরও এক্সকু্লসিভ। আবার সেটা যখন অমিতাভ রেজা বানাবেন, তখন দুটি বিখ্যাত নাম একসঙ্গে আসবে; সবার প্রত্যাশা অনেক বেড়ে যাবে। তা ছাড়া হুমায়ূন আহমেদের পরিবার হিসেবে আমাদেরও একটা প্রত্যাশা আছে। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের এত ভালো একটা গল্প নির্মাণের ক্ষেত্রে তিনি যে বাজেট ধরছেন, সেটা আমাদের কাছে সম্মানজনক ও গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তার আগের ছবির চেয়ে নতুন সিনেমার বাজেট কম হবে- এটা আমরা ভাবিনি। আর আমাদের কাছে যা মানানসই মনে হয়েছে, সেটা নাকি তার বাজেটের বাইরে। যে জন্য তিনি ছবি নির্মাণ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে- এ বিষয়ে কিছু বলবেন?

এখানে আসলে শর্তের কিছু নেই; নিয়মের কথাই বলেছি। আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের মেধাস্বত্বের যে নিয়ম, আমরা সেটাই তার কাছে তুলে ধরেছি। হুমায়ূন আহমেদের মতো একজন খ্যাতিমান লেখকের গল্প আমি নেব, তার মূল্যমান অবশ্যই দিতে হবে। এ জন্য আমরা বলেছি, দেশে নয়- বিদেশের কোনো বড় প্ল্যাটফর্মে সিনেমাটি প্রদর্শিত হলে সেখান থেকে আমাদের রয়্যালিটি দিতে হবে। হুমায়ূন আহমেদের গল্পের নিজস্বতা বজায় রাখতে যে ধরনের মূল্যমান নির্ধারণ করতে হয়, আমরা সেটা করেছি।

হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর তার সাহিত্য ও সৃজনশীল সব বিষয় দেখভাল করার জন্য ট্রাস্টি বোর্ড রয়েছে বলে শুনছি। আসলে ট্রাস্টি বোর্ড কি আছে?

আইনগতভাবে হুমায়ূন আহমেদ ট্রাস্টি বোর্ড বলতে যা বোঝায়, তা এখনও গঠিত হয়নি। আমরা উত্তরাধিকারীরা আলোচনা করে যে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিই। সেখানে হুমায়ূন পরিবারের অধিকাংশ সদস্য উপস্থিত থাকেন। কাগজ-কলমে আইনগত ভিত্তির ওপর একটি ট্রাস্ট গঠন করার প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ অসংখ্য গল্প রেখে গেছেন। ইতিমধ্যে তার লেখা অসংখ্য গল্প দিয়ে সিনেমা ও নাটক নির্মান করা করেছে। তবে সব সময় তার পরিবারের মতামত নিয়েই সিনেমা ও নাটক করা হয়। কিন্তু কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের পরিবার থেকে বলা হচ্ছে কিছু নির্মাতা কোনো নিয়ম না মেনেই তার গল্প দিয়ে সিনেমা তৈরি করতে চায় যা ঠিক নয়। আর এবার এই বিষয়ে খোলাসা কথা বললেন মেহের আফরোজ শাওন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *