ইউনিয়ন ব্যাংকের ভল্টের ১৯ কোটি টাকা উধাও, সব শাখার ভল্ট পরিদর্শন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

গত বছর থেকে চলমান খারাপ পরিস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতির অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে প্রায় সময় দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ উঠে আসছে। এমনকি প্রায় সময় দেশে ব্যাংকের সম্পর্কেও নানা রকম সংবাদ উঠে আসছে। অনেক মানুষ ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করা নিরাপদ মনে করে। কিন্তু ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। আর এবার রাজধানী ঢাকা শহরের একটি ব্যাংক থেকে ১৯ কোটি টাকা উধাও হওয়ার সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। এই ঘটনা সম্পর্কে এবার বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ্যে এলো।

দেশের বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংক ইউনিয়ন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় সংলগ্ন গুলশান শাখার ভল্ট থেকে ১৯ কোটি টাকা উধাও হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে এসেছে। গত সোমবার এ ঘটনা উদ্ঘাটন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকটির সব শাখার ভল্ট পরিদর্শন করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এদিকে অনিয়মের তথ্য উদ্ঘাটনের পরও শাখার কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। গুলশান থানায়ও এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং পরিদর্শন বিভাগের একটি দল ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখা পরিদর্শনে যায়। সকাল ১০টার আগেই তারা শাখায় গিয়ে উপস্থিত হন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শুরুতেই তারা ভল্ট পরিদর্শন করেন। কাগজে-কলমে শাখার ভল্টে ৩১ কোটি টাকা দেখানো হলেও পরিদর্শক দল সেখানে ১২ কোটি টাকা পায়।
তাৎক্ষণিকভাবে এর কোনো জবাব দিতে পারেননি শাখার কর্মকর্তারা। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে শাখা কর্তৃপক্ষ। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যাংকটির ব্যাখ্যা তলবের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংশ্নিষ্টরা জানান, প্রতিদিন লেনদেনের শেষ ও শুরুতে ভল্টের হিসাব মিলিয়ে নেয়ার দায়িত্ব শাখা ব্যবস্থাপক, সেকেন্ড অফিসার এবং ক্যাশ ইনচার্জের। ভল্টে টাকার হিসাবে কোনো গরমিল হলে তা মিলিয়ে নেয়ার দায়িত্ব এসব কর্মকর্তার। অনেক সময় হিসাবের ভুলে সামান্য টাকার গরমিল হতে পারে। তবে বিপুল অঙ্কের টাকার গরমিল হলে তা ফৌজদারি অপরাধ। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পুলিশে সোপর্দ করতে হবে। তবে এ ঘটনায় থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরিও করেনি ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি।

এদিকে পরিদর্শনে গিয়ে যারা এই তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন, তাদেরকে চাপে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার দুই দিন পার হলেও বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করেনি ইউনিয়ন ব্যাংক।

ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখার অপারেশন ম্যানেজার সাইফুল আজম মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ব্যাংকিং বিধিবিধানের বাইরে কিছু করার সুযোগ তাদের নেই। শাখায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কেউ ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে।’

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখার ভল্ট পরিদর্শনে গিয়ে টাকার গরমিল পাওয়া গেছে বলে তিনি শুনেছেন। সূত্র: মানবজমিন

এদিকে, এই ব্যাংকের ভল্ট থেকে ১৯ কোটি টাকা উধাও হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কেন্দ্রিয় ব্যংক নড়ে চড়ে বসেছে। তবে বর্তমানে এই বিষয়টি নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন দেখআ দিয়েছে। অনেকে বলছেন এতো টাকা গরমিল তো একদিনে হয়নি। বর্তমানে এই ঘটনা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রিয় ব্যাংক। এদিকে, অনেকে বলছে সাধারণ মানুষ ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করতে সব থেকে নিরাপদ মনে করে কিন্তু এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষ কি আর ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করতে উৎসাহি হবে। তবে এই ঘটনাটি ভালো ভাবে তদন্ত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *