শক্তি শারীরিক ক্ষমতা থেকে আসে না. এটি অদম্য ইচ্ছা থেকেও আসে। অদম্য ইচ্ছা থাকার জন্য কাউকে অসাধারণ মানুষ হওয়ার দরকার নেই। আপনার কেবল অসাধারণ মানসিকতা দরকার। যদি কেউ কেবল নিজের মনকে কোনো কিছুতে নিবিড়ভাবে নিবিষ্ট করেন তবে জয় ছিনিয়ে আনতে তার সময় লাগে খুব কম।
এবার আকবর আলী সেই রকমই জয় দেখিয়েছে যা ছিল তার একটি প্রতিজ্ঞাও। জয় নিয়েই দেশে ফেরে এই পণ করে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক। আকবর আলীর মা সাহিদা আক্তার বলেন, অদম্য ইচ্ছাই নিয়ে সে খেলতে গিয়েছিল যা তাকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের জয়ের পর নিজ বাড়িতে গনমাধ্যমকে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আকবরের মা সাহিদা আক্তার বলেন, আকবর আমার দোয়া নিয়ে খেলতে গিয়েছিলো। আল্লাহর রহমতে আজ সে বাংলাদেশের মুখ বিশ্বে উজ্জ্বল করেছে। এ জয় পুরো দেশবাসীর জন্য উৎসর্গ করেন তিনি। এ সময় মা সাহিদা আক্তারের চোখে জল চলে আসে।

অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তার বাবা মোস্তফা গনমাধ্যমকে বলেন, আমি কান্না থামাতে পারছি না। এ কান্না খুশির কান্না। মহান আল্লাহ তায়ালা তার ওপর রহমত করেছে বলেই আজ রংপুর থেকে সে পুরো বিশ্বে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে।

এ সময় সবার কাছে তার ছেলের জন্য দোয়া কামনা করে তিনি বলেন, আমার ছেলে স্বপ্ন দেখতো সে দেশের হয়ে খেলবে এবং জয় ছিনিয়ে আনবে। তার দৃঢ় মনোবল আজ তাকে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে।

আকবরের দেশের বাড়ি রংপুরের পশ্চিম জুম্মাপাড়ায় আর জয়ের খবরের পর সেখানে হাজির হয় দেশের সেরা সব গনমাধ্যমের সংবাদকর্মীসহ শুভাকাঙ্ক্ষীরা, শুরু হয় তাদের উপচেপড়া ভিড়, যাতে গর্ব অনুভব করে এলাকাবাসী। আসতে থাকে রংপুরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনন্দ মিছিল যা সৃষ্টি করে অনেকটা উৎসবের। নানা শ্রেনী পেশার মানুষ এসে তার বাড়ির সামনে, তাতে অনেকে আনন্দ প্রকাশ করে তার প্রশংসাও করেন।