শ্বশুরের মন্ত্রণালয়ের মৌলবাদ প্রীতির বিরুদ্ধে থাকবেন ইমরান এইচ সরকারএকজন অরাজনৈতিক পেশাজীবী মানুষ থেকে হঠাৎ করেই গণআন্দোলন মঞ্চের নেতা হিসেবে দেশের মানুষের কাছে পরিচিত হয়েছেন ইমরান এইচ সরকার। চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও তার পরিচয় এখন একটি অরাজনৈতিক গণমোর্চার সদস্য এবং নেতা হিসেবে। তিনি গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র। প্রায় তিন বছর প্রেমের পর গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ডা. ইমরান এইচ সরকার এবং শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বড় মেয়ে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাদিয়া নন্দিতা ইসলাম।
শুরু থেকেই এ বিয়ে নিয়ে সামাজিক গণমাধ্যমে বিতর্ক চলছে। অনেকের বাকা মন্তব্য ছিল তাদের প্রেম নিয়েও। তবে বিয়ে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই জানিয়েছেন ইমরান। মানবকণ্ঠকে ইমরান বলেন, যেহেতু ঘরোয়াভাবে অনুষ্ঠান ছিল তাই গোপনীয় মনে হতে পারে। কিন্তু বিষয়টা তেমন না। যেহেতু আমাদের দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের গণ্ডি অনেক বড়, তাই প্রাথমিকভাবে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ অল্প সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে একসঙ্গে অথবা আলাদাভাবে বড় করে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন শুরুর বেশ কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো এক অনুষ্ঠানে ইমরানের প্রথম দেখা হয় নন্দিতার সঙ্গে। পরে আন্দোলন চলাকালীন সময় বন্ধুত্ব হয়। প্রথম দিকে গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে প্রকাশিত পত্রিকা ‘জাগরণ’-এ সহয়াতা করেন নন্দিতা। এরপর গণজাগরণ মঞ্চের লিফলেট তৈরি করতে ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদে সহায়তা করেন তিনি। নন্দিতা আন্দোলনে ইমরানের সহযোদ্ধা হিসেবে উপস্থিত থাকা ছাড়াও বিভিন্ন দৈনিকে গণজাগরণের পক্ষে কলাম লিখেছেন বলে জানান ইমরান এইচ সরকার।
গণজাগরণের কাজ করতে করতেই একসময় ইমরান এবং নন্দিতার বন্ধুত্বের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। এই বন্ধুত্ব প্রেমে পরিণত হলে ২০১৩ সালের শেষের দিকেই ইমরান এবং নন্দিতা নিজেদের বিয়ের শ্বশুরের মন্ত্রণালয়ের মৌলবাদ প্রীতির বিরুদ্ধে থাকবেন ইমরান এইচ সরকারব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন। তাছাড়া নন্দিতার নানাবাড়ি এবং ইমরানের নিজের বাড়ি কুড়িগ্রামে হওয়াও বন্ধুত্ব প্রেমে পরিণত হওয়ার অন্যতম কারণ বলে জানান ইমরান।
দু’জনের পরিবারকে সম্পর্কের কথা জানানোর পর ২০১৬ সালের শুরুর দিক থেকে বিয়ের ব্যাপারে দুই পরিবার আলোচনা শুরু করে। তবে ২০১৬ সালের মধ্যেই বিয়ে করবেন বলে মাকে কথা দিয়েছিলেন ইমরান। তাই ৩১ ডিসেম্বরকেই বিয়ের দিন হিসেবে বেছে নিয়েছেন ইমরান-নন্দিতা।
হানিমুনের জন্য জায়গা নির্ধারণ না করলেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে নন্দিতা এবং ইমরান আলোচনা করছেন বলে জানান। তারা জানান, দু’জনেই নতুন সংসার খুব জমিয়ে উপভোগ করছেন। কোনো কোনো জায়গায় দু’জনেই একমত অথবা কোনো কোনো জায়গায় দ্বিমত রয়েছে, কে কাকে কোথায় কতটুকু ছাড় দেবেন সেসব বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানান ইমরান।
নন্দিতা যতটা স্ত্রী, তারচেয়ে বেশি বন্ধু বলে জানান ইমরান এইচ সরকার। ইমরানের বাবা-মা কুড়িগ্রামে এবং ঢাকার ভাড়া বাসায় প্রায় সমান সময় থাকেন। নববধূ নন্দিতা খুব ভালোভাবেই পরিবারের সব সদস্যকে বুঝে চলছেন বলে জানান তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে নন্দিতা ইসলাম ছাত্র রাজনীতি না করলেও তাকে রাজনীতি সচেতন মানুষ হিসেবে মনে করেন তার স্বামী। ইমরান মনে করেন, দুজন যেহেতু দু’জনকে আগে থেকেই চেনেন, সেহেতু সংসার জীবনের টুকিটাকি বিষয়ে দু’জন পরস্পরকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করতে পারবেন। নন্দিতার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ানো, গবেষণা এবং অন্যান্য কাজে তিনি সহায়তা করবেন বলে জানান। একইসঙ্গে রাজনৈতিক কাজে দেশে এবং দেশের বাইরে যোগাযোগ রক্ষা করাসহ সব কাজে নন্দিতাও ইমরানকে সহযোগিতা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিয়ের ফলে সামাজিক দায়িত্ব পালনে আরো গতি আসবে বলে মনে করেন ইমরান। এখন দু’জনে মিলে সিদ্ধান্ত নিতে আরো সুবিধা হবে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে চিকিৎসা সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারছেন না এবং লেখালেখি ও কলসালট্যান্সিকেই পেশা হিসেবে নিয়েছেন বলে জানান ইমরান। এককভাবে মানুষকে সহযোগিতা করার আর্থিক সঙ্গতি নেই জানিয়ে ইমরান বলেন, অতীতে যেমন সবার সহযোগিতা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি, ভবিষ্যতেও সবাইকে নিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়াব।
ইমরানের শ্বশুর সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে হেফাজত তথা মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর পরামর্শ মেনে নিয়ে সরকার প্রাথমিকের বই ছাপিয়েছে। জানতে চাইলে ইমরান বলেন, বিয়ের সঙ্গে প্রতিবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। গণজাগরণ মঞ্চের নীতিবিরুদ্ধ যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগের মতোই প্রতিবাদ জারি থাকবে।
একসময় ছাত্রলীগ করলেও কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৌলবাদের দোসর বলেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান জানান, তিনি বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তবে সরকারের যে কোনো সিদ্ধান্ত মৌলবাদীদের পক্ষে গেলে আগের মতোই প্রতিবাদ করবেন বলে জানান তিনি।
সরাসরি কোনো দলের হয়ে রাজনীতি না করলেও নিজেকে রাজনীতিবিদ হিসেবেই মনে করছেন ইমরান। ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করার ইচ্ছা নেই বললেও নির্বাচন করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে যান ইমরান এইচ সরকার।
উৎসঃ আমাদের সময়
             

News Page Below Ad