জঙ্গিবিরোধী অভিযানে মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলামের মৃত্যুর পর নব্য জেএমবির শীর্ষনেতা মাইনুল ইসলাম মুসার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল তার স্ত্রী জেবুন্নাহার (শীলা)।রাজধানীর পূর্ব আশকোনার সূর্যভিলা বাড়িটি ভাড়া নিয়ে মুসা ও শীলা একসঙ্গে থাকতেন। 
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) একাধিক কর্মকর্তা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হন জাহিদ। এরপর থেকেই মুসার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে শিলার। এর আগে, ২০১৫ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি থেকে জাহিদ ও মুসা রাজধানীর উত্তরার ১৩ নং সেক্টরে একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। সেই থেকে তাদের চেনা জানা।
সিটিটিসি কর্মকর্তারা আরও জানান, স্বামী মেজর(অব.) জাহিদের মৃত্যুর পর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জঙ্গিনেতা মুসার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল শীলা। শীল‍া খুবই চালাক ও বুদ্ধিমতী। তিনি শিক্ষিতও বটে। শীলা মুসার সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করতেন। শুক্রবার রাতের অভিযানে সূর্যভিলার ওই বাড়িতে পুলিশের অভিযানে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
অন্যদিকে, এখানে যে নারী সুইসাইডাল অ্যাটাকে মারা গেছেন, তার দুই বিয়ে হয়েছিলো। আগের স্বামীর নাম ইকবাল। জানা গেছে, তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর সন্ত্রাসী সুমনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ওই বিয়ের পর থেকেই এই নারী নব্য জেএমবির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ‘অপারেশন রিপল ২৪’ নামে ১৬ ঘণ্টার অভিযানে ২ নারী ও ২ শিশুকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত নারীদের মধ্যে একজন হল শীলা এবং দুই শিশুর মধ্যে ‍একজন হল নিহত জঙ্গি নারীর মেয়ে।
অন্যদিকে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে মারা যান আজিমপুরে জঙ্গি বিরোধী অভিযানে নিহত তানভীর কাদেরীর ছেলে আফিফ কাদরী। তানভীরের আরেক ছেলে তাহরিন কাদেরী কারাগারে রয়েছেন।
দুই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, যে এক্সপ্লোসিভ ও সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে। তাতে সামনে হয়তো কোনো হামলার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। এই নারীকেই হয়তো সুইসাইডাল অ্যাট‍াকে ব্যবহার করা হতো। যে শিশুটি আহত হয়েছে, তাকেও হয়তো এ ধরনের অ্যাটাকে ব্যবহার করা হতো। এছাড়া, এ বাড়িটি নব্য জিএমপির দফতর হিসেবে ব্যবহার হতো।
মেজর জাহিদের দাদাবাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন কুমিল্লায় ছিলেন। ওই সূত্রে তিনি কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের পশ্চিম চাঁন্দপুরে বাড়ি করে স্থায়ী নিবাস গাড়েন। জাহিদ বড় ছেলে। তিনি কুমিল্লায় লেখাপড়া করেন।
২০০৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে জাহিদ (তখন ক্যাপ্টেন ছিলেন) ও জেবুন্নাহারের (শীলা) বিয়ে হয়। তাদের দুই মেয়ে আছে। বড় মেয়ের বয়স সাত বছর আর ছোট মেয়ের বয়স সাত মাস।
অন্যদিকে রাজশাহী বাগমারার রঘুপাড়ায় ১৯৮৮ সালের ২০ ডিসেম্বর আবুল কালাম ও মা সুফিয়ার ঘরে জন্ম নেওয়া মুসা রাজশাহীতেই এক সময় জেএমবির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
মুসা ঢাকা কলেজ থেকে ২০১১ সালে ইংরেজিতে স্নাতক ও ২০১২ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন বলে গোয়েন্দারা জানান। উত্তরার একটি স্কুলে ইংরেজির শিক্ষক হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন মুসা।
সিটিটিসি সূত্র জানায়, হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার কথা মুসা আগে থেকে জানতেন। দুই মাস আগে তাকে ধরতে পুলিশ রাজশাহীতে গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালালেও তাকে পায়নি।
শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ‘অপারেশন রিপল ২৪’ নামে ১৬ ঘণ্টার অভিযানে নিহত হন দুই ‘জঙ্গি’। তাদের মধ্যে এক নারী ‘জঙ্গি’ আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন। এছাড়া দুই শিশুসহ দুই নারী আত্মসমর্পণ করেন। আহত এক শিশু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ১৯টি গ্রেনেড, ৩টি পিস্তল ও ২টি সুইসাইডাল ভেস্টসহ বেশকিছু সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ। পরে বোম ডিসপোজাল ইউনিট গ্রেনেডগুলো দিনভর দফায় দফায় নিস্ক্রিয় করে।