সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রথম থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে সংক্রিয় ছিলেন ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানের অনেক অনিয়ম ও দুর্নিতির কথা তুলে ধরেন। এরপর থেকে তাকে নিয়ে দেশজুড়ে প্রায় সময় আলোচনা শুরু হয়। তবে এরপর তিনি দেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অনেক সমাবেশে উপস্থিত হতেন। আর একাটা সময় তাকে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে নেওয়া হয়েছে। আর এবার এই ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন বিভিন্ন বিষয়ে দেশের একটি জনপ্রিয় গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতি পরিচিত মুখ। ফেনীর নুসরাত হ’’ত্যা’’কা’’ণ্ডে ওসির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি। এলাকার উন্নয়নে পথঘাট মেরামত করেছেন এলাকাবাসীকে নিয়ে। আওয়াজ তুলেছেন ফুটপাত দখলসহ অসংখ্য দুর্নীতি-অন্যায়ের বিরুদ্ধেও। ফেসবুকে নানা সংকট তুলে ধরে লাইভ প্রচার করে থাকেন তিনি। এর মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধানও করেছেন ব্যারিস্টার সুমন। সম্প্রতি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগের কেন্দ্রীর কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এ সংগঠনের অনিয়ম-অসঙ্গতি নিয়ে তার অবস্থানসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন গণমাধ্যমের সঙ্গে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সুমন বলেন, যুবলীগের আদর্শ যাচাই-বাছাই করেই এ সংগঠনে এসেছি। আমার প্রতিবাদের ভাষা, আর এ দলের যে আদর্শ- এ দুইয়ের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। তিনি বলেন, স্বভাবজাতভাবেই আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করে থাকি। প্রতিবাদ যৌক্তিক হলে কোনো আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার কথা নয়। তাই যতদিন সক্ষমতা আছে, যতদিন বেঁচে আছি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাব।

যুবলীগের সাম্প্রতিক ইমেজ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, যুবলীগ নিয়ে গত দুই-তিন বছর যে বদনাম হয়েছে, আমাদের সাবেক নেতৃবৃন্দ আদর্শ থেকে কিছুটা বিচ্যুত হয়েছেন। কিন্তু এবারের এ কমিটিকে আনা হয়েছে যে আদর্শের ওপর যুবলীগের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, সেই পথ ধরে সোনার বাংলা গড়ার জন্য।

ইমেজ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে কী করবেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা করতে আলাদা করে কিছু করার প্রয়োজন হবে না। সাধারণ রুটিন মেনে কাজটা করলেই চলবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

দলের কেউ অপকর্ম, দুর্নীতি করলে তার পক্ষে দাঁড়াবেন, নাকি বিপক্ষে- এমন প্রশ্নে সুমন বলেন, আমার দুটি সত্তা- আমি অ্যাডভোকেট, সেক্ষেত্রে কেউ আইনি সহায়তা চাইলে দেব। কারণ যে কেনো মানুষের আইনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার অধিকার আছে। তবে যুবলীগের বা অন্য কোনো দলের কেউ যদি বড় অপরাধ করে, আর তার বিরুদ্ধে দাঁড়ালে যদি সমাজ মুক্তি পায়, দশজনের কল্যাণ হয়, তবে দেশের পক্ষেই দাঁড়াব।

ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে আমার পদত্যাগ করার কারণ ছিল, আমার কাজের ভার-গতি ছিল না। করোনা শুরুর আগে পদত্যাগ করেছি। কারণ আমার কাছে শুধু শুধু বসে বেতন নেওয়াটা ভালো লাগে না। আমি যেভাবে নৈতিক কথা বলি সেখানে নিজের অবস্থান পরিষ্কার থাকা দরকার। এজন্য কাজ না করে বেতন নেওয়াটা সমীচীন মনে করিনি।

ব্যারিস্টার সুমন করোনাকালে নিজ এলাকায় ফুটবল ক্লাব করেছেন। তরুণদের নিয়ে বড় স্বপ্ন তার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল, তরুণদের মাঠে নিতে না পারলে পরবর্তী প্রজন্ম শারীরিকভাবে আনফিট হয়ে যাবে। বাচ্চারা কম্পিউটারবেউজড হয়ে যাচ্ছে। সবারই ফুটবল প্রেম আছে। তাই ভাবলাম মানুষকে যদি মাঠমুখী করা যায় তাহলে আমাদের জেনারেশন ফিট থাকবে। এ ছাড়া মা//দ//ক থেকেও সবাই দূরে থাকবে। সূত্র:আমাদের সময়ের

এদিকে, এই ব্যারিস্টার সুমন তার নিজ এলাকায় অনেক কাজ করে চলেছেন। নিজ উদ্যোগে অনেক সামাজিক কাজ করেছেন তিনি। এছাড়া দেশে করোনা ভাইরাস দেখা দেওয়ার পর থেকে তিনি তার নিজ অর্থ দিয়ে অনেক অসহায় মানুষকে সহায়তা করেছেন। আর এখনো তিনি অনেক সমাজিক কাজের সাথে যুক্ত রয়েছেন একই সাথে প্রায় সময় অনেক মানুষকে সহায়তা করে চলেছেন।