দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে এখন প্রযন্ত অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া এখনও অনেক নেতা এই তালিকায় রেয়েছে। এবার অনেক নেতার ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন, যুবলীগের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুর রহমান মারুফ এবং সেচ্চাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাওসারসহ আরও ২০ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১৯ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে হিসাব জব্দের জন্য পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে এনবিআর সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে তাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো টাকা উত্তোলন ও স্থানান্তর না করারও নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়া যুবলীগের দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক কে এম মাসুদুর রহমান, কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মিজান ও রাজিব এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব অনুসন্ধান ও জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠানেরও ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে এনবিআর।

যুবলীগের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুর রহমান মারুফ তার স্ত্রী সানজিদা রহমান, তাদের দুটি প্রতিষ্ঠান টি-টোয়েন্টিফোর গেমিং কোম্পানি লিমিটেড ও টি-টোয়েন্টিফোর ল’ ফার্ম লিমিটেডের ব্যাংক হিসাবের লেনদেনও স্থানান্তর করতে পারবেন না।

অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাউসার, স্ত্রী পারভীন লুনা, মেয়ে নুজহাত নাদিয়া নিলা এবং তাদের প্রতিষ্ঠান ফাইন পাওয়ার সল্যুয়েশন লিমিটেড।

এছাড়া পৃথক চিঠিতে যুবলীগের সদ্য বিদাযী চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, তার স্ত্রী শেখ সুলতানা রেখা, ছেলে আবিদ চৌধুরী, মুক্তাদির আহমেদ চৌধুরী ও ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী এবং তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান লেক ভিউ প্রোপার্টিজ ও রাও কনস্ট্রাকশনের হিসাব থেকেও কোনো টাকা উত্তোলন বা স্থানান্তর করা যাবে না। চিঠিতে ধানমন্ডির ৮/এ সড়কের ইস্টার্ন হেরিটেজ, রমনার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের ৪৫ নম্বর বাসা ও চট্টগ্রামের রাউজানের সূত্রাপুর ঠিকানা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে যুবলীগ নেতা হলেন কে এম মাসুদুর রহমান, তার বাবা আবুল খায়ের খান, মা রাজিয়া খান, তার স্ত্রী লুতফুর নাহার লুনা ও তাদের প্রতিষ্ঠান সেবা গ্রীন লাইন লিমিটেড। যুবলীগের দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান, তার স্ত্রী সুমি রহমান, তার প্রতিষ্ঠান মা ফিলিং স্টেশন ও আরেফিন এন্টারপ্রাইজ।

তাছাড়া কাউন্সিলর পাগলা মিজান, তারেকুজ্জামান রাজিব ও তাদের পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ১১৬ ধারার ক্ষমতাবলে ব্যাংক হিসাবের স্থগিতের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য এর আগে সিআইসি থেকে এর আগে নুর নবী চৌধুরী শাওন এমপি, জি কে শামীম সেলিম প্রধান, খালেদ ও ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটসহ বেশ কয়েকজন এবং তাদের পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়।

এই অভিযান চলা কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনে বলেছেন যারা অবৈধ কাজের সাথে জড়িত তাদের কে কোন ছাড় দেয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, আমার দলের লোক বা ঘরের লোক হোক না কেন তাদের কোন ছাড় দেয়া হবে না। এরপর থেকে অনেক নেতার ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।