সম্প্রতি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেফতারের বিষয়ে নতুন আইন প্রনীত হয়েছে। ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের জন্য সরকারের যে পূর্বানুমতির চাকরি আইন-২০১৮ প্রনয়ন করা হয়েছে, তা ১ অক্টোবর ২০১৯ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত আইন প্রনয়ন কমিটি সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে একদিকে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা অপরদিকে সরকারি চাকরি আইনের বাস্তবায়নের বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক, অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ না থাকলে কোনো দুর্নীতি হওয়া সম্ভব নয়। পুলিশ কিংবা আমলাই হোক তাদের অংশগ্রহণেই সব ধরনের দুর্নীতি হয়। এই ধরনের চাকরি আইন করা মানে হবে দুর্নীতিবাজদের রক্ষাকবচ আরও পাকাপোক্ত করা। এক কথায় বলা চলে, দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করার একটি অনন্য উপায় হলো এই সরকারি চাকরি আইনটা করা।

তিনি এ বিষয়ে আরও বলেন, বর্তমানে যে গ্রেফতার চলছে, তা অনেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান বলে আখ্যা দিচ্ছেন, একথাটা প্রকারন্তে ঠিক নয়। সরকার এটাকে শুদ্ধি অভিযান বলেই দাবি করছে, কিন্তু এটা শুদ্ধি অভিযান নয়। ক্যাসিনোতে যে অভিযানগুলো চলেছে এবং এরই প্রেক্ষিতে অন্যান্য কয়েকটি যে অভিযান চালানো হয়েছে, এর সঙ্গে দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের তেমন কোনো সম্পর্ক আছে বলে আমি মনে করি না। আগামীতে দুর্নীতিবাজরা যেন কোনো প্রকার ঝামেলায় না পড়ে এবং সহজে এড়াতে পারে, সেজন্যই এ ধরনের আইন তৈরী করা হয়েছে।