সরকার দলীয় লোকদের কম কথা বলার পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা কথা বলবো না, আমরা কাজ করবো। আমি সবাইকে বলবো, এই সময়টা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই সময় অতিকথন দেশের জন্য খারাপ ফল বয়ে আনতে পারে।
শনিবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর ফার্মগেটে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির তৃতীয় দিনের শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন।


ওবায়দুল কাদের বলেন, ’অতিকথন থেকে আমি দায়িত্বশীল সকলকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কথা কম বলে আমাদের বেশি করে কাজ করতে হবে। মানুষকে বাঁচাতে হবে। একটা মহল আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। যাতে ঈদের সময় মানুষ বাড়ি ঘরে না যায়। বাড়ি ঘরে কেন যাবে না, সবার ইচ্ছা আছে পরিবার-পরিজন নিয়ে আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করার। সবাই বাড়ি যাবেন কিন্তু সর্তক থাকবেন। এটাই আমাদের অনুরোধ। সর্তক থেকে ঈদ উদযাপন করবেন।’

এছাড়া ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দরকার নেই বরং বিপদ-সংকট থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য বিএনপিকেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ’নির্বাচনে ব্যর্থ, আন্দোলনে ব্যর্থ। যারা দেড় বছরেরও খালেদা জিয়ার জব্য দেড় মিনিটও আন্দোলন করতে পারেনি। যারা আজকে বিরোধী দল হিসাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থ, আজকে ডেঙ্গু প্রতিরোধেও তারা ব্যর্থ। তাদের জন্যই আজকে জরুরি অবস্থা দরকার, জরুরিভাবে তাদের বিপদ-সংকট থেকে উদ্ধার করার জন্য।’

সেতুমন্ত্রী জানান, ’আজকে ডেঙ্গু এবং এডিস মশা প্রতিরোধ করতে শেখ হাসিনার সরকার কর্ম তৎপরতা শুরু করেছে সর্বাত্মকভাবে। আমরা আজকে এটাকে একটা লড়াই হিসাবে নিয়েছি।

’ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ, শেখ হাসিনার নির্দেশ’-এই অঙ্গীকার আমরা নিয়েছি জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বিএনপির উদ্দেশে বলেন, ’অনেকে কাজে নেই। আজকে দল হিাসবে বিরোধী দলেরও এখানে দায়িত্ব আছে। এই পরিচ্ছন্নতাতা অভিযানে কোথাও তারা নেই। কখনো বলে মহামারি ঘোষণা করো, কখনো তারা বলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করো। জরুরি অবস্থা তাদের দরকার। যারা জরুরি সংকটে আছে দল হিসাবে। ব্যর্থতার দগদগে ঘা যাদের।’

বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ’দেশের মানুষ কাজ চায়। দেশের মানুষ নাম চায় না। কি নামে অভিহিত করবো, আজ দুনিয়ার দিকে তাকান? ফিলিপাইনে হাজারের মতো মানুষ মারা গেছে। লক্ষাধিক লোক আক্রান্ত।’ এটা ভয়ংকরভাবে প্রতিবেশি দেশ ভারতসহ ভিয়েতনাম, মিয়ানমার চীন, থাইল্যান্ডে বিস্তার লাভ করেছে বলেও জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ’আমরা কাজে বিশ্বাস করি। গতকাল আমরা স্বাচিপ এবং বিএমএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। এই টিম সারাদেশের হাসপাতালগুলো চিকিৎসা সেবা মনিটরিং করবে এবং ডেঙ্গু রোগীদের পাশে থাকবে।’

এই লড়াইয়ে আমরা আছি। শেখ হাসিনার নির্দেশে যতদিন না পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে পারব, যতদিন ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ না গড়তে পারব, ততদিন পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে। এ লড়াই বন্ধ হবে না, এটাই আমাদের অঙ্গীকার বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, ঢাকা উত্তর সিটির করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম আতিক, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমত উল্লাহ, সহসভাপতি আসলামুল হক, উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানসহ অনেকে।