ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রথম শ্রেণির আন্তঃনগর তিনটি ট্রেনে সর্বোচ্চ ২২টি করে কোচ সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। টেকনিক্যাল সমস্যা দেখিয়ে এতদিন ২২টির জায়গায় ১৮টি কোচ দিয়ে ট্রেন চালিয়ে আসছিল পরিবহন বিভাগ। কিন্তু গত তিনমাস ধরে যান্ত্রিক বিভাগের অনীহার কারণে অতিরিক্ত বগি না পাওয়ায় ১৬টি কোচ দিয়ে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। এতে করে রেলওয়ে মাসে কোটি টাকার আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
রেলওয়ের সূত্র জানায়, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, সোনার বাংলা ও তূর্ণা এক্সপ্রেসে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬টি অতিরিক্ত কোচের চাহিদা থাকে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্তও অতিরিক্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ লাগিয়ে আসছিল। কিন্তু এপ্রিলের পর থেকে এসব ট্রেনে চাহিদা থাকা সত্বেও এই পরিমাণ অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করতে পারছে না পরিবহন বিভাগ। বগি আনফিট দেখিয়ে যান্ত্রিক বিভাগ পরিবহন বিভাগকে অতিরিক্ত বগি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

তবে যান্ত্রীক বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, তারা চাহিদা অনুযায়ী পরিবহন বিভাগকে অতিরিক্ত কোচ দিচ্ছে।

পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সুবর্ণ এক্সপ্রেসের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত টিকিটের মূল্য ৭২৫ টাকা। একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে সিট থাকে ৫৫টি। যদি অতিরিক্ত একটি কোচও লাগানো যায়, তাহলে এই ট্রেন থেকে যাওয়া আসা মিলিয়ে রেলওয়ের আয় হতো প্রতিদিন ৭৯ হাজার ৭৫০ টাকা।

আবার সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত টিকিটের মূল্য এক হাজার টাকা। একইভাবে এই ট্রেনেও একটি অতিরিক্ত কোচ লাগাতে পারলে যাওয়া আসা মিলিয়ে প্রতিদিন আয় হতো ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। তূর্ণা এক্সপ্রেসের একটি টিকিটের মূল্য ৬৫৬ টাকা। অতিরিক্ত একটি কোচ লাগালে এই ট্রেন থেকেও প্রতিদিন আয় হতো ৭২ হাজার ১৬০ টাকা। সেই হিসেবে অন্তত প্রতিদিন তিন ট্রেনে তিনটি অতিরিক্ত কোচ লাগালেও প্রতিদিন রেলওয়ের আয় হতো ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১০ টাকা। যা মাসিক হিসেবে দাঁড়ায় ৭৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩০০ টাকা।

কর্মকর্তারা বলছেন, আগে প্রতিদিন ৬টি অতিরিক্ত কোচ লাগানোর ফলে এইসব ট্রেন থেকে মাসে আয় হতো এক কোটি ৫৭ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টাকা। বর্তমানে অতিরিক্ত কোচ লাগাতে না পারায় এ পরিমাণ আয় থেকে রেলওয়ে বঞ্চিত হচ্ছে।

রেলের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা জানান, একটি ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে ১৬টি কোচ নিয়ে ঢাকা গেলে যে পরিবহন খরচ হয়, ২২টি কোচ নিলেও একই খরচ। তবে কোচ বেশি হলে রেলের আয় বাড়ে এবং সরকারের ভর্তুকি কমে। অন্যদিকে যাত্রীরাও চাহিদা অনুযায়ী টিকিট পান। কিন্তু পরিবহন বিভাগের শক্ত অবস্থান ও যান্ত্রিক বিভাগের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি না থাকায় যাত্রীসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

তারা বলছেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক যান্ত্রিক বিভাগের অজুহাতকে আমলে নেওয়ার কারণে এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। যাত্রীসেবা বাড়াতে তারও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে।

যান্ত্রীক বিভাগের অনীহার কারণে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা যাচ্ছে না বিষয়টি অস্বীকার করে যান্ত্রীক বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট মেকানিক্যাল ইনচার্জ হুমাইরা মহিউদ্দিন গনমাধ্যমকে বলেন, যখন যেরকম চাহিদা এসেছে, আমরা ওই চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত বগি দিচ্ছি।

গত এপ্রিল থেকে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হয়নি বিষয়টি স্বীকার করে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট নাজমুল হোসেন গনমাধ্যমকে বলেন, নতুন নতুন ট্রেন বিভিন্ন রুটে পরিচালনা করা হচ্ছে, যেখানে ফিট কোচগুলো লাগানো হচ্ছে। এছাড়া কিছু কোচ আনফিট হওয়ার কারণে অতিরিক্ত বগির সংখ্যা আগে থেকে কমে গেছে। এছাড়া টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে আমরা অতিরিক্ত কোচ লাগাতে পারছিনা।