আমরা ভেতো বাঙ্গালী এই কথাটি জীবনে সাহিত্যকরাই শুধু তাদের সাহিত্যেই প্রয়োগ করেননি, এটা আমরা মাঝে মাঝে আমাদের কর্মের মাঝেও উপলদ্ধি করি। বাঙ্গালী হিসেবে যেহেতু উপাধিটি পেয়েছি, সেহেতু, পেঁয়াজকে পাশ কাটিয়ে চলার জো নেই। গরমকালে পান্তা আর শীতের কড়কড়ে ভাত, যাই বলেন না কেন, কাঁচা মরিচের সাথে পেঁয়াজের ঝাঁঝটা না হলে কিসে যেন রসনা তৃপ্তি খুজে পায় না। শাহি খানাদানায় কী আর পেঁয়াজ-ঘিয়ের ঘন ঝোল ছাড়া চলে?
সে রকমই একটি পোস্ট করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-

"ছেলে ভালো, তবে পেঁয়াজ খায়’’- কারো বিপক্ষে বলতে হলে কোনো কোনো অঞ্চলে এইভাবেই বলে। একটা নাটক আছে "সেই রকম চিনিখোর"। এখন নাটক চলছে "সেই রকম পেঁয়াজখোর"।

পেঁয়াজের মূল্য সংকটের কারণে মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে এই জাতি এতদিন শুধু পেঁয়াজ খেয়েই বেঁচে ছিল। পেঁয়াজের মূল্য সংকটের কারণে এখন তাদের বাঁচা মরা সমস্যা হয়ে গেছে। এটা দেখে কিছুটা বিস্মিত না বিচলিত হলাম তা নিজেও বুঝতে পারলাম না। বিষয়টি হলো টিভিতে একজনকে দেখলাম, তিনি পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে কোনো কারনে কিনতে না পেরে অনেকটা হাউমাউ করে কান্না কাটি জুড়ে দিয়েছেন। ঐ ক্রেতার কান্না দেখে পাশে দাড়ানো রিপোর্টার, অর্থাৎ যিনি রিপোর্ট করছিলেন তিনিও তার চোখে মুখের আবেগকেও কন্ট্রোল করতে ব্যার্থ হয়েছেন।

আমার মনে হয় না, পেঁয়াজ নিয়ে এত্তো এত্তো আবেগ এর আগে পৃথিবীর কোনো জাতি দেখেনি।

পরিচিতি: প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি।

লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত এবং কিছুটা পরিমার্জিত।