বিচারক ছেলের এজলাসে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পিতা উপস্থিত হওয়ার পর সকলের অগোচরে ঘটে যায় এক অভূতপূর্ব ঘটনা। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক না থাকলে কেউ জানতেও পারত না। আর যখন তা প্রকাশিত হয়ে পড়ল, তখন বিষয়টি ভাইরাল হতে দেরি করেনি।
ছেলে সাইদ শুভ রাজশাহীর সিনিয়র সহকারীর একটি জজ আদালতের বিচারক। সোমবার দুপুরে ছেলের বিচারকাজ দেখতে আদালতে যান ইয়াকুব আলী। এ সময় বিচারক এজলাসে উপস্থিত হলে আইনজীবী, বিচারপ্রার্থীসহ অন্যদের সঙ্গে তিনিও দাঁড়িয়ে সম্মান জানান।

বিষয়টি চোখে পড়ে বিচারক সন্তানেরও। পরে বিচারক সাইদ শুভ তার অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক বাবাকে নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। যে স্ট্যাটাস থেকে বুঝতে পারা যায় এই ঘটনাটি কতটা সংবেদন তৈরি করেছে।

পাঠকদের জন্য সাইদ শুভর স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

’একজন বিচারকের খাসকামরায় বিচারকের চেয়ারে বসা তার খুব সাধারণ অথচ গর্বিত বাবার স্থিরচিত্র এটি। এই স্থিরচিত্রটি খুবই সাধারণ কিন্তু অনেক কারণে তাৎপর্যমণ্ডিত।

গত কয়েক দিন আগে বাবা রাজশাহীতে এসেছেন। আজ আদালতে এসেছিলেন তার সন্তানের বিচার কার্যক্রম স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে।

নির্ধারিত সময়ের আগে এজলাসে বসে অপেক্ষা করছিলেন। আদালতে বিচারক হিসেবে আসন গ্রহণের সময় খেয়াল করলাম আইনজীবী, বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে বাবাও দাঁড়িয়ে আদালতকে সম্মান জানালেন।

নিয়মানুযায়ী, আদালত আসন গ্রহণের সময় এজলাসে উপস্থিত আইনজীবী, বিচারপ্রার্থীসহ সব মানুষ দাঁড়িয়ে আদালতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। বিচারকদের জন্য এটি নিত্যনৈমিত্তিক একটা সাধারণ ঘটনা।

কিন্তু যে ব্যাপারটিতে আমার চোখ আটকে গেল, সেটি হলো- অন্যরা নিয়ম পালনের স্বার্থে আদালতকে দাঁড়িয়ে সম্মান করলেন। আর বাবার চোখেমুখে যে সম্মানটা দেখলাম, সেটি একেবারেই ভেতর থেকে এসেছে; এই সম্মানটা উনি তার নিজ ঔরসজাত সন্তানের প্রতি প্রদর্শন করলেন।’

তিনি আরও লেখেন, ’পৃথিবীর সব বাবাই তাদের সন্তানদের এভাবে সম্মান জানাতে পারলে সব থেকে বেশি খুশি হন। সত্যি বলতে, পৃথিবীর কোনো মানুষই কারও কাছে পরাজয়কে মেনে নিতে পারেন না।

দুজন মানুষ পরাজয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হন। বাবা ও শিক্ষক- এ দুই প্রজাতির মানুষ সন্তান ও ছাত্রের কাছে পরাজিত হতে পেরে সব থেকে বেশি আনন্দিত হন। এই পরাজয় মানে তাদের বিজয়।

এ ধরনের বিজয়লাভ করার সুযোগ খুব অল্প মানুষের ভাগ্যে ঘটে। বাবা ও শিক্ষক হিসেবে সার্থক মানুষদের ক্ষেত্রে এটি ঘটে থাকে। সত্যি বলতে, এই অধম সন্তানও পৃথিবীতে সব থেকে বেশি সম্মান করে তার পিতাকে এবং তার মাতাকে।’ -দেশ রূপান্তর