বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণের আরও পাঁচ লাখ টাকার চেক দিয়েছে। আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ে হাইকোর্টের এজলাস কক্ষে রাসেল সরকারের হাতে এ চেক দেওয়া হয়। এ প্রযন্ত ১০ লাখ টাকার চেক পেলেন এ ভুক্তভোগী।
সোমবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরর হাইকোর্ট বেঞ্চে চেক তুলে দেন গ্রিন লাইনের আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায়। আগামী ১৭ অক্টোবর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে।

গত ২১ জুলাই আদালত এক সপ্তাহের মধ্যে পাঁচ লাখ টাকার প্রথম কিস্তি দেয়ার সময় বেঁধে দেন। ওইদিন গ্রিন লাইনের পক্ষে শুনানিতে নতুন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক সময় চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১৬ জুলাই গ্রিন লাইনের আইনজীবী মো. অজি উল্লাহ মামলা পরিচালনা থেকে তার নাম প্রত্যাহার করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

গত ২৫ জুন রাসেল সরকারকে প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে ৫ লাখ টাকা করে পরিশোধ করতে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। টাকার দেওয়ার পর তা প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে জানাতে বলা হয় আদেশে।

গত ১০ এপ্রিল রাসেল সরকারের হাতে ক্ষতিপূরণের ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছিল গ্রিন লাইন বাস কর্তৃপক্ষ। ওই দিন এজলাস কক্ষে গ্রিন লাইনের আইনজীবী মো. অজি উল্লাহ এই চেক রাসেলের হাতে তুলে দেন।

গত ১৫ মে হাইকোর্ট ৭ দিনের মধ্যে রাসেলকে ক্ষতিপূরণের বাকি ৪৫ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার আগে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট পা রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে গ্রিন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে রাসেলের চিকিৎসার জন্য যা খরচ তা দিতে বলা হয়।

উল্লেখ, যাত্রাবাড়িতে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসের চাপায় ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনার দিন গ্রিন লাইনের একটি বাস রাসেল সরকারের ওপর দিয়েই বাস চালিয়ে দেন। এতে রাসেলের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাসেলের বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে। তার পা হারানোর পর গত বছরের ১৪ মে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম।