বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে গোটা বিশ্বের মানুষ এক রকম ভীতির মধ্যে রয়েছে। আর এই করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রতিদিন অনেক বেদনাদায়ক সংবাদ প্রকাশ পাচ্ছে। এমনকি কোনো মানুষ অসুস্থ হয়ে রাস্তায় পড়ে থালেও কেউ তার কাছে যেতে চায়না এমন সংবাদও প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া করোনায় সংক্রমিত হয়ে কারও প্রাণ গেলেও অন্যরা সেখানে যায় না। আর এবার দেখা গেল আরও একটি করুন দৃশ্য। জানা গেছে, ছেলে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে এই সংবাদ শুনে মা না ফেরার দেশে চলে যান।


তবে ছেলের করনা হওয়ায় মহিলার দেহ সৎকারে এগিয়ে এলেন না পড়শি বা আত্মীয়েরা। প্রায় ৮ ঘণ্টা বাড়ির গেটের সামনে পড়ে থাকার পরে এলাকার সাবেক কাউন্সিলর লা’শটি জেলা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সোমবার এমনই অমানবিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া এলাকার বাসিন্দারা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ছেলের করোনা হওয়ায় মা-ও তাতে আক্রান্ত হয়ে মা’’রা গেছেন, এমন ধারণা থেকে ওই অমানবিক আচরণ করেছেন আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা।

স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই বৃদ্ধার নাম রাজকুমারী জৈন (৫৫)। বালির ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের বীরেশ্বর চ্যাটার্জি স্ট্রিটে একটি পাঁচতলা ভবনে থাকতেন তিনি। রাজকুমারী দেবীর ছেলে রিকি দিন কয়েক আগে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রিকি করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বাড়িতেই কোয়রেন্টিনে ছিলেন রাজকুমারী দেবী, বাবা বিনোদ কুমার এবং স্ত্রী অর্চনা।

পরিবার সূত্রের খবর, থাইরয়েড-সহ বিভিন্ন সমস্যায় অনেক দিন ধরেই ভুগছিলেন ওই বৃদ্ধা। রবিবার গভীর রাতে আচমকা তাঁর শ্বা’সকষ্ট শুরু হয়।

বিনোদ কুমার বলেন, ’পরিচিত এক চিকিৎসককে ফোন করলে তিনি জানান, রোগীকে না-দেখে ওষুধ দেওয়া সম্ভব নয়। বহু কষ্টে অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পথেই উনি মা’রা যান।’ তিনি জানান, ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, সেখানে পৌঁছনোর অনেক আগেই মৃ’’ত্যু হয়েছে ওই বৃদ্ধার। তখন স্ত্রীর দে’হ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন বিনোদ বাবু।

তার অভিযোগ, ’দেহটি ভবনে ঢোকাতে গেলে বাধা দেন অন্য বাসিন্দারা। অগত্যা মূল গেটের সামনে রাস্তার এক ধারে রাজকুমারী দেবীর নিথর দেহ শুইয়ে রেখে বিছানার চাদর চাপা দিয়ে দেন পরিবারের লোকজন। সকাল সাড়ে ৬ টা থেকে সেখানেই পড়ে ছিল দেহটি।

বিনোদবাবু বলেন, ’ডেথ সার্টিফিকেট না-পেলে তো দাহ করাও সম্ভব নয়। তাই কী করব বুঝতে পারছিলাম না।’

বিনোদবাবুদের ফ্ল্যাটের উল্টোদিকেই থাকেন তাদের আত্মীয়েরা। অভিযোগ, দেহটি গেটের সামনে পড়ে থাকায় যেমন ফ্ল্যাটের অন্য বাসিন্দারা কেউ আসেননি, তেমনই আসেননি রাজকুমারী দেবীদের আত্মীয়েরাও। শেষে বিষয়টি জানতে পেরে ওই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর প্রবীর রায় চৌধুরী যোগাযোগ করেন পুলিশ ও পৌরসভার সঙ্গে। দুপুর ২টা নাগাদ পৌরসভার লা’শবাহী গাড়ি করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয় বৃদ্ধার দে’হ। সূত্র- আনন্দবাজার।

এদিকে, ওই বৃদ্ধার এক প্রতিবেশি এই বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি বলেন, এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। সবাই ভেবেছে তিনি করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। আর এ কারণে কেউ তার জন্য এগিয়ে আসেনি। এই ঘটনায় ওই এলাকায় বেশ সমালোচনা দেখা দিয়েছে। তবে এরপর তাকে হাসপাতাল থেকে এসে নিয়ে যাওয়া হয়। আর তার শেষকৃত্য কিভাবে হবে সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।