বর্তমানে করোনা ভাইরাস কাপছে পুরো বিশ্ব। দেশে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও প্রাণ যাওয়ার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এদিকে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে করোনা ভাইরাস ব্যাপকভাবে হানা দিয়েছে। আর এই কারোনা ভাইরাসের কারণে অনেক দেশ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। করোনা ভাইরাসে দাপফ নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনো দেশে দেশে লকডাউন চলছে। তবে এরপরও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নেই। এদিকে, বিশ্বের অনেক দেশ লকডাউন করলেও প্রথম থেকে সুইডেন বিভিন্ন ভাবে চলেছে। এই দেশটি লকডাউন করেনি। আর এবার এই দেশটি করোনায় প্রাণ না যাওয়া একটি দিন পার করেছে। এই দেশটি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সফল দেশগুলোর শীর্ষে রয়েছে।

গত ১৩ মার্চের পর এই প্রথম দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় একজনও মা’রা যাননি। রোববার সুইডিশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

লকডাউন ছাড়াই জনগণের স্বেচ্ছা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, হাত ধোয়া এবং মাস্ক পরার নিয়ম মেনে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সুইডেনের উন্মুক্ত এই পদ্ধতি নিয়ে অনেকে সমালোচনা ছিল। এমনকি অনেকে ভাইরাস মোকাবিলায় দেশটি বিপজ্জনক কৌশল বেছে নিয়েছে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

তবে ভবিষ্যতে দেশটির এই সফল পদ্ধতি মহামারি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুকরণীয় মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।

করোনা মোকাবিলায় বিশ্বের অধিকাংশ দেশ যখন লকডাউন আরোপ করে, তখন উল্টো পথে হেঁটে সফল হয়েছে সুইডেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ করোনায় মৃ’’ত্যুপরীতে পরিণত হয়ে অবরুদ্ধ দশায় আটকা পড়লেও মহামারির শুরু থেকেই সুইডেনের রাস্তায় হাজারও মানুষের চলাচল, দোকানপাট, রেস্তারাঁ খোলা দেখা যায়।

এতে জনগণের স্বেচ্ছা সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য সুরক্ষা অবলম্বন করতে দেখা যায়। যদিও এই উন্মুক্ত পদ্ধতির করোনা মোকাবিলা নিয়ে বিশ্বজুড়েই সমালোচনার মুখে পড়েছিলে সুইডেন। তবে দেশটির সরকার শক্তিশালী চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণেই এই পদ্ধতিতে করোনা মোকাবিলার পথে হাঁটছে বলে জানায়।


এদিকে, এই দেশটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের চেয়ে সঠিক ভাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মেনে চললে এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তবে এখন পর্যন্ত ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় এই দেশে করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ হয়ে গড় প্রাণ যাওয়ার সংখ্যা সব থেকে বেশি। এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৯০ এর অধিক মানুষ করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত প্রাণ হারিয়েছে। আর দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৭ হাজার ৫৪০ এর অধিক মানুষ করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে। এদিকে, দেশটিতে করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে প্রায় ৪ হাজার ৯৬৯ এর অধিক রোগী।