চীনে প্রথম করোনা ভাইরাস দেখা দেওয়ার পর তা দ্রুত অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আর এই করোনা ভাইরাস ছড়ানোর সাথে সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসের কার্যকারি ওষুধ বা প্রতিশোধক তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই করোনা ভাইরাসের কার্যকারি ওষুধ বা প্রতিশোধক তৈরি করার জন্য চিকিৎসক বিজ্ঞানীদের এক প্রকার ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তবে বেশ কয়েকটি দেশের চিকিৎসক বিজ্ঞানীরা দাবি করছে তারা কার্যকারি ওষুধ বা প্রতিশোধক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। অনেক দেশের চিকিৎসক বিজ্ঞানীরা তাদের তৈরি ওষুধ বা প্রতিশোধক ইতিমধ্যে পরীক্ষাও করেছে।


ক্তরাষ্ট্রের সোরেন্টো থেরাপিউটিক্স এমন একটি করোনাভাইরাস অ্যান্টিবডির সন্ধান পেয়েছে, যা সংক্রমণ শতভাগ ঠেকাতে সক্ষম বলে পরীক্ষাগারে প্রমাণ হয়েছে। প্রি-ক্লিনিক্যাল ল্যাবের ওই পরীক্ষার ফলাফল এখন মানুষকে আশাবাদী করে তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ছোট আকারের একটি বায়োফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা সোরেন্টো থেরাপিউটিক্স ইনকরপোরেশন মূলত ক্যানসার, প্রদাহ, পরিপাক এবং সংক্রামক রোগের চিকিৎসার জন্য মানব চিকিৎসায় অ্যান্টিবডি গবেষণা করে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার কোভিড-১৯ অ‌্যান্টিবডির খোঁজ পাওয়ার দাবি করার পরপরই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমূল‌্য ২৪৪ শতাংশ বেড়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটির গবেষকেরা দাবি করেন, তাঁদের খোঁজ পাওয়া অ্যান্টিবডিটি প্রাক-ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় গবেষণাগারে ভাইরাসের বিরুদ্ধে শতভাগ বাধা দিতে পেরেছিল বলে দেখা গেছে।

সংস্থাটি বলেছে, তারা একটি অ্যান্টিবডি ককটেল তৈরি করবে, যা করোনাভাইরাসটির বিরুদ্ধে ’প্রতিরক্ষামূলক ঢাল’ (প্রটেকটিভ শিল্ড) হিসেবে কাজ করবে। তাদের পরীক্ষার ফল শিগগিরই একটি পিয়ার রিভিউ জার্নালে জমা দেওয়া হবে। এ ছাড়া নিয়ন্ত্রকদের অ‌্যান্টিবডি প্রার্থীর অগ্রাধিকার মূল্যায়ন এবং ত্বরান্বিত পর্যালোচনা করার জন্য বলবে। ক্লিনিক্যাল গবেষণা সফল বলে মনে হলে তারা উত্পাদন বাড়ানোর জন্য ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা, সরকার ও সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করবে।


এদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিকিৎসক বিজ্ঞানীরা করোনা ভাইরাসে কার্যকারি ওষুধ বা প্রতিশেধোক তৈরি করা জন্য এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছে। আর এবার মার্কিন প্রতিষ্ঠান দাবি করছে তারা করোনা শতভাগ ঠেকানোর অ‌্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। আর এটি নিয়ে এখন মার্কিন প্রতিষ্ঠান ব্যাপক আশাবাদি। তবে এখনো তারা এই অ‌্যান্টিবডি নিয়ে অনেক গবেষণা করছে। তারা বলছে এটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবে।