বর্তমান বিশ্বের মানুষের কাছে একটাই ভীতির নাম করোনা ভাইরাস। প্রতিটি সময় একের পর এক খারাপ সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। এদিকে, বিশ্ববাসীর কাছে একটাই প্রশ্ন এই করোনা ভাইরাস কবে বিশ্ব থেকে দূর হবে। তবে দেশে দেশে প্রতিদিন যেমন নতুন করে অনেকে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছেন ঠিক তেমনি প্রতিদিন অনেক মানুষ করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন। এদিকে, সারা বিশ্বে এখন প্রর্যন্ত প্রায় তিন লাখ মানুষের প্রাণ গিয়েছে এই ভাইরাসে। তবে আজ এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে এতটুকুই এখন সস্থির খবর।


তবে এর বিপরীতে প্রাণহানি ঘটেছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ১০২ জনের; যা মৃ’’ত্যু এবং আক্রান্তের প্রায় ১৬ শতাংশ। সোমবার পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৫ লাখ ৬৮৫ জন; মৃ’’ত্যু এবং আক্রান্তের হারে যা প্রায় ৮৪ শতাংশ।

বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে করোনায় আক্রান্ত সংখ্যা এখন ৪১ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৮। বর্তমানে করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ২৪ লাখ ১৩ হাজার ৬৩১। এই আক্রান্তদের মধ্যে ২৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৩ জনের অবস্থা তেমন গুরুতর নয় বরং সুস্থ হয়ে ওঠার পথে; হালকা অসুস্থ এই রোগীর হার ৯৮ শতাংশ।

এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের গুরুতর কিংবা আশ’ঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন ৪৭ হাজার ৩৮ জন; যা সংক্রমিত রোগীর (২৪ লাখ ১৩ হাজার ৬৩১ জনের) মাত্র ২ শতাংশ।

প্রতিনিয়ত লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃ’’ত্যু এবং সংক্রমণ। চীনে গত বছরের ডিসেম্বরে একেবারে নতুন এই ভাইরাসটি মাত্র ৪ হাজার ৬৩৩ জনের প্রাণ কাড়লেও মৃ’’ত্যুপুরীতে পরিণত করেছে আমেরিকা এবং ইউরোপের কিছু দেশকে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই আশঙ্কা উদ্বেগ বাড়িয়েছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের। এশিয়ার দেশগুলোতে করোনার সংক্রমণ এবং মৃ’’ত্যু প্রত্যেকদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এই অঞ্চলে ৬ হাজার ৬৪০ জনের মৃ’’ত্যু নিয়ে সবার শীর্ষে রয়েছে ইরান। করোনায় মৃ’’ত্যুতে তারপরই আছে চীন (৪,৬৩৩ জন), তুরস্ক (৩,৭৮৬ জন)। এরপরই আছে বাংলাদেশের প্রতিবেশি ভারত; দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ২ হাজার ২১২ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৬৭ হাজার ২৫৯ জন।

পুরো এশিয়ায় বর্তমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখ ৭২ হাজার ২৮৪ এবং প্রাণহানি ঘটেছে ২২ হাজার ২৪০ জনের। মহাদেশের হিসাবে প্রাণহানির এই সংখ্যা ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকার পর চতুর্থ সর্বোচ্চ।

করোনাভাইরাসের কারণে চাপের মুখে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই ভাইরাসটির লাগাম টানার কৌশল হিসেবে লকডাউন ও সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার মতো নানা ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।

একক দেশ হিসেবে করোনায় সর্বোচ্চ প্রাণহানি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে করোনায় মা’রা গেছেন ৮০ হাজার ৭৮৭ জন। আক্রান্তের তালিকাতেও শীর্ষে থাকা এই দেশটিতে বর্তমানে করোনা রোগীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৯৬৩ জন। তবে দেশটিতে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৩৬ জন। বাকি ১০ লাখ ৩০ হাজার ৮৪০ জন এখনও করোনার চিকিৎসা নিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনায় সর্বাধিক মৃ’’ত্যু যুক্তরাজ্যে। দেশটিতে ২ লাখ ১৯ হাজার ১৮৩ জন করোনায় আক্রান্ত হলেও প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ হাজার ৮৫৫ জন; যা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং ইউরোপে সর্বাধিক।

যুক্তরাজ্যের পর ইউরোপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানি ঘটেছে ইতালিতে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ১৯ হাজার ৭০ জন, মারা গেছেন ৩০ হাজার ৫৬০ জন। তবে আক্রান্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লাখ ৫ হাজার ১৮৬ জন।

ইউরোপে করোনার লাগামহীন বিস্তারে আপাত ভাটা পড়লেও এবার এশিয়া হয়ে উঠছে এই ভাইরাসের কেন্দ্র। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, করোনার নতুন কেন্দ্র হতে পারে এশিয়া। এই অঞ্চলের দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে প্রাণ হারাতে পারেন লাখ লাখ মানুষ।

এদিকে, করোনা ভাইরাসের কার্যকারি ভ্যাকসিন তৈরি করার জন্য বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা আপরান চেষ্টা করে যাচ্ছে। করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির জন্য বিজ্ঞানী এবং গবেষকদের এক প্রকার ঘুম হারাম হয়ে গেছে। দেশে দেশে এখন বিজ্ঞানী এবং গবেষকদের একটাই আশা এই করোনা ভাইরাসের কার্যকারি ভ্যাকসিন আবিস্কার করা। এদিকে, বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা বলছে একটি কার্যকারি ভ্যাকসিন আবিস্কার করতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। করোনা ভ্যাকসিন তৈরি করার পর তা বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে দেখতে হয়। তবে করোনা ভাইরাসের রূপ বদলে ফেলায় বিজ্ঞানী এবং গবেষকদের আরও চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। এই সকলের মধ্যে একটাই ভালো সংবাদ প্রকাশ পাচ্ছে আর তা হল এখন অনেকে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠছে।