পরিবহণ শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে ঢাকা শহরে কোন গনপরিবহণ চলছে না। আর বাস না থাকায় সুযোগ নিচ্ছেন রিকশা চালকরা। গন্তব্যে পৌঁছাতে দুই-তিনগুন ভাড়া আদায় করছে তারা।
আর সরেজমিনে দেখা যায় এমনই চিত্র।
শাহজাহান আলী নামে এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, আজিমপুর থেকে ধানমন্ডির বাস ভাড়া সর্বোচ্চ ১০ টাকা, আর রিকশা ভাড়া ৫০ থেকে ৭০ টাকা। কিন্তু বাস না চলায় রিকশাওয়ালারা আদায় করছে ১৫০ টাকা। আর যাত্রী দু’জন হলে সেক্ষেত্রে ২০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে।
মিরপুর এক থেকে শ্যামলি যাবেন আব্দুর রব। রিকশা ভাড়া জিজ্ঞাস করতেই চাইল ১২০ টাকা। যেখানে নিয়মিত ভাড়া মাত্র ৪০/৫০ টাকা। আব্দুর রব জানান, ‌’প্রতিদিন লেগুনায় করে মিরপুর এক নম্বর থেকে শ্যামলি পর্যন্ত যেতেন, ভাড়া ছিল মাত্র ৭টাকা। আজ দুই দিন ধরে রাস্তায় কোন লেগুনা বা বাস পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে রিকশায়। আর রিকশাওয়ালারাও সুযোগ পেয়ে ভাড়া আদায় করছে তিন গুন। কিভাবে কি করবো বুঝতেছি না।’
আব্দুর রবের মতই অতিরিক্ত রিকশা ভাড়ায় বিভ্রত সেলিম আহমেদ। প্রায় দেড় ঘন্টার বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছেন টেকনিক্যালে। ’কি করবো ভাই অফিসে তো যেতে হবে, অফিসকে তো আর বললে মানবে না যে রাস্তায় গাড়ি পাচ্ছি না। কিন্তু কিভাবে যাবো? সরকার যদি আমাদের সাধারণ মানুষের কষ্টটা বুঝতো! বড় লোকদেরতো প্রাইভেটকার আছে তারাও যেতে পারছে শুধু বিপাকে পড়তে হয় আমাদের।’-বললেন সেলিম। তাই রিকশাই তার শেষ ভরসা।
সিটি কলেজে পড়ুয়া ফারিয়াও যেতে পারছেন না কলেজে। আজ তার গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস। কিন্তু দাঁড়িয়ে আছেন অনেক সময় ধরে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে উঠতে হয়েছে রিকশায়। প্রতিদিন আড়ং থেকে সাইন্সল্যাব পর্যন্ত যেতাম ৪০ টাকা দিয়ে, আজ ৯০ টাকা দিয়ে যেতে হচ্ছে।
মামা প্রতিদিনতো আর এতো ক্ষেপ মারতে পারি না। আজকা সুযোগ আছে মাইরা লই। পরে দুইদিন বইসা বইসা খামু, মনের আনন্দে কথাগুলো বলছেন মতি মিয়া। রাজ পথে বাস না থাকায় বেশ খুশি রিকশা চালকরা। অন্য দিনের তুলনায় আজ তাদের কাছে যাত্রী বেশি আসছে। যেখানে প্রতিদিন যাত্রী জিজ্ঞাস করতো মামা কোথায় যাবেন? আজ সেখানে যাত্রীরাই জিজ্ঞাস করছে মামা যাবেন!