রাজধানী ঢাকা শহরের কলাবাগানে স্কুলছাত্রী আনুশকা নুর আমিন অর্না এর সাথে যে ঘটনা ঘটেছে তার এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা জায়নি। এদিকে, এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চেয়ে আসছে এই তরুণীর পরিবার। প্রথম থেকেই এই তরুণীর পরিবার থেকে বলা হয় তাদের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। তবে এই তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হলেও এখনো সেই ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর ল্যাববন্দি রয়েছে। আর চিকিৎসক বলছেন একটা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়।
মাসের পর মাস ধরে লা’/’শে’/’র ম’/’য়’/’না’/’ত’/’দ’/’ন্ত প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন ঘটনার ফ/রেনসিক প্রতিবেদনও ল্যাবে বন্দি থাকে। এতে জট খোলে না সংঘটিত নানা অ/প/রা/ধ র/হ/স্যে/র। রাজধানীর কলাবাগানে স্কুলছাত্রী আনুশকা নুর আমিন অর্নার ঘটনার আলামতের প্রতিবেদনগুলোও এখন পর্যন্ত ল্যাবেই বন্দি রয়েছে। এ জন্য ওই ঘটনার সার্বিক তদন্ত কার্যক্রমও আটকে আছে। ২৩ দিন পার হলেও ম’/’য়’/’না’/’ত’/’দ’/’ন্ত প্রতিবেদন, ডি/এ/ন/এ নমুনার প্রতিবেদন, ভিসেরা আর নানা আলামতের ফরেনসিক প্রতিবেদন না মেলায় অনেক প্রশ্নের উত্তরও জানা যাচ্ছে না স্প/র্শ/কা/ত/র ওই ঘটনার। এতে ওই ছাত্রীর পরিবারেও হতাশা দেখা দিয়েছে।

৭ জানুয়ারি মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ’ও’-লেভেলের ছাত্রী আনুশকাকে নিজের বাসায় ডেকে নেয় বন্ধু ফারদিন ইফতেখার ওরফে দিহান। এর পর মেয়েটির ওপর চালানো খারাপ কাজ। একটা সময় সে মা’’রা যায়। গ্রেপ্তার হয়ে দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দেয় দিহান। কিন্তু মাঝে সৃষ্টি হয় নানা প্রশ্নের। এ জন্য শুরু থেকেই দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার চেয়ে আন্দোলন করছে আনুশকার সহপাঠীরাসহ বিভিন্ন সংগঠন।

এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় চার্জশিট দিতে এবং জড়িত বা জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে কেন বিলম্ব হচ্ছে- সেই খোঁজ নিতে গিয়ে পাওয়া গেল প্রয়োজনীয় প্রতিবেদনগুলো নিয়ে সংশ্নিষ্ট দুই সংস্থার ঠেলাঠেলির চিত্র। পুলিশ বলছে, ম’/’য়’/’না’/’ত’/’দ’/’ন্ত প্রতিবেদন ও ফ/রেনসিক প্রতিবেদন না পাওয়ায় মামলার চার্জশিট দেওয়া যাচ্ছে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফ/রেনসিক বিভাগ বলছে, সিআইডির ল্যাব থেকে ভিসেরা আর ডিএনএ প্রতিবেদন না পাওয়ায় ম’/’য়’/’না’/’ত’/’দ’/’ন্ত প্রতিবেদন দেওয়া যাচ্ছে না। এতসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন যেখানে আটকে আছে, সেই সিআইডির ল্যাব বলছে, আলামতগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও সম্পন্ন হয়নি। তদন্ত সংশ্নিষ্ট সূত্র বলছে, এসব কারণে ওই ঘটনায় দায়ের মামলার ত/দ/ন্ত কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।

যেসব প্রশ্নের উত্তর আটকে আছে ল্যাবে :আনুশকার ম’/’র’/’দেহের ম’/’য়’/’না’/’ত’/’দ’/’ন্ত ’/’রী চিকিৎসকের দেওয়া ভাষ্যের পর তার পরিবার প্রশ্ন তুলেছে- এমন ঘটনায় দিহান একাই জড়িত ছিল, নাকি তার সঙ্গে অন্য কেউ ছিল? গত ৮ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ম’/’য়’/’না’/’ত’/’দ’/’ন্ত শেষ করে চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, ’মেয়েটি বি/কৃ/ত ও কূ/রু/চি/পূ/র্ণ যৌ/না/চা/রে/র শি/কা/র হয়েছিল। তার যৌ/না/ঙ্গ এবং পা/য়ু/প/থে ক্ষ/ত/চি/হ্ন পাওয়া গেছে। এ কারণে অতিরিক্ত র/ক্ত/ক্ষ/র/ণে মৃ//ত্যু হয়েছে।’ ম’/’য়’/’না’/’ত’/’দ’/’ন্ত ’কা’রী চিকিৎসক এও বলেছেন, স্বাভাবিক শারীরিক সম্পর্কে এতটা খারাপ পরিণতি হওয়ার কথা নয়।

এই ঘটনার আগে দিহান বা আনুশকা উ/ত্তে/জ/ক কোনো ওষুধ সেবন করেছিল কিনা বা তারা নে/শা/গ্র/স্ত ছিল কিনা, সে প্রশ্নের জবাবও মেলেনি। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদনে ১৭ বছর বয়সী আনুশকার বয়স বাড়িয়ে কেন ১৯ লিখেছিল, সেসব প্রশ্নেরও উত্তর মিলছে না।

আনুশকার পরিবার বলছে, ঘটনার পর হাসপাতাল থেকে আটক হওয়া দিহানের তিন বন্ধুকেও তারা আসামি করতে চেয়েছিল। তবে পুলিশ শুধু দিহানকে একাই আসামি করার পরামর্শ দিয়েছিল। এর পর রহস্যজনক কারণে ওই তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কেন এমনটা হয়েছে, সে প্রশ্নের জবাবও পাচ্ছে না আনুশকার পরিবার।

গতকাল শুক্রবার আনুশকার মা গণমাধ্যমকে বলেন, মেয়েটাকে এভাবে মেরে ফেলল; কিন্তু বিচারটা এখনও পেলাম না। তারা মনে করছেন, একার পক্ষে এভাবে তার মেয়েকে হ’’’ত্যা করা সম্ভব নয়। সবকিছু মিলিয়ে তিনি ও তার পরিবার হতাশ হচ্ছেন।

ওই ছাত্রীর এক স্বজন গণমাধ্যমকে জানান, তাদের কাছে মনে হচ্ছে, পুলিশ দিহানকে দ্রুত জবানবন্দি নিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে কিছু একটা যেন ধামাচাপ দিতে চাচ্ছে। কাউকে বাঁচাতে চাইছে কিনা, সে সন্দেহ তাদের হচ্ছে।

সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা যা বলছেন :ওই ঘটনায় হওয়া মামলার ত/দ/ন্ত তদারকি কর্মকর্তা পুলিশের নিউমার্কেট থানার সিনিয়র সহকারী কমিশনার আবুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, তারা এখনও ম/য়/না/ত/দ/ন্ত প্রতিবেদন, ডিএনএ রিপোর্ট বা ভিসেরা রিপোর্টের কিছুই পাননি। এ জন্য কোনো সিদ্ধান্তেও আসা যাচ্ছে না। এসব পেলে সব যাচাই-বাছাই করে আদালতে ত/দ/ন্ত প্রতিবেদন দেওয়া যাবে।

দিহান একাই ঘটনায় জড়িত ছিল কিনা জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবেদনগুলো পাওয়া গেলে সবকিছু জানা যাবে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তদন্ত কার্যক্রমে নজর রাখছেন।

এখনও ম/য়নাতদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফ/রেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ সমকালকে বলেন, মেয়েটির ডিএনএন নমুনা ও ভিসেরা নমুনা পরীক্ষার জন্য সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এগুলো পাওয়া গেলে বোঝা যাবে, পাশাবিকতায় একজন নাকি একাধিক ব্যক্তি অংশ নেয়। তাই এই প্রতিবেদন না পাওয়ায় ম/য়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, সিআইডি ল্যাব থেকে তাদের কাছে প্রতিবেদনগুলো এলেই ম/য়/না/ত/দ/ন্ত/কা/রী চিকিৎসকের বোর্ড দু’দিনের মধ্যে পুলিশের কাছে প্রতিবেদন দিয়ে দেবে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবের বিশেষ পুলিশ সুপার রুমানা আক্তার গণমাধ্যকে বলেন, অনেক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে পরীক্ষাগুলো করাতে হয়। এ জন্য কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তা ছাড়া বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় হয়তো একটু সময় লাগছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সূত্র:সমকাল

এদিকে, এই ঘটনার পর অভিযুক্ত দিহান ইতিমধ্যে সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে খোলাসা ভাবে বলেছেন। তিনি জানান উপায়ের সম্মতিতে ওই দিন তাদের মধ্যে ওই সম্পর্ক হয়। তবে এই দাবি মানতে রাজি নয় তরুণীর পরিবার। তরুণীর মা বলেন তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক ছিল না। তবে এখনো ল্যাববন্দি হয়ে রয়েছে অনেক প্রশ্ন। আর এই সকল প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলেই আসল ঘটনা সম্পর্কে জানা যাবে মনে করছেন অনেকে।