বাংলাদেশের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা ফারুক। বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে যার অবদান অনেক বেশি। এই অভিনেতা সিনেমা জগত থেকে রাজনৈতিক নেতা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা ১৭ আসনের সংসদ সদস্য। আর তিনি অনেক আগে থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তবে এরপরও তিনি দেশের চলচ্চিত্র সম্পর্কে সব সময় খোঁজ-খবর রাখেন এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে নানা রকম আলোচনা লেগেই রয়েছে। আর এবার এই অভিনেতা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন।


বাংলাদেশে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দুই নেতা মিশা সওদাগর ও জায়েদ খানের বহিস্কারের দাবি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। চলমান এই ঘটনা ও সিনেমা-সংশ্নিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে তিনি
কেমন আছেন?
সুস্থ আছি। ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটছে। করোনার কারণে আমার নির্বাচনী এলাকায় অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সংসদ সদস্য হিসেবে এই দুর্দিনে তো আর বাসায় বসে থাকতে পারি না। সরকার ও নিজের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।
করোনায় বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?
সংকটের মধ্যে পড়েছেন। তবে করোনার চাইতেও আমাদের চলচ্চিত্রে আরও বড় সংকট রয়েছে। এর সমাধানের জন্য অনেক সময়ের প্রয়োজন।
কীভাবে সংকটের সমাধান আসবে?
শিল্পীদের কাজ অভিনয় ও সিনেমা নির্মাণ করা। সেটিই হচ্ছে না। কিছুদিন পর একে অন্যকে বহিস্কার করা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি করছে। বিএফডিসির বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেও বিব্রতবোধ করছি। যতদিন পর্যন্ত সবাই একত্রিত না হতে পারবে, সিনেমার পরিবর্তন হবে না।
বিএফডিসির ১৮ সংগঠনের নেতারা জানান, শিল্পী সমিতির মিশা-জায়েদের পদত্যাগ ছাড়া কোনো সমঝোতা করবেন না। পদত্যাগ হলেই কি সমাধান আসবে?
শিল্প বা শিল্পীকে কখনও বহিস্কার করা যায় না। বরং শিল্পীরা চাইলে প্রযোজককে বহিস্কার করতে পারেন। বর্তমানে এ ধরনের পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিত, তা আগেই বলেছি। তবে শিল্পী সমিতির কর্মকাণ্ড আমার কাছে খারাপ মনে হয়নি। করোনার এই সময়ে তারা দুস্থ শিল্পীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সহায়তা করেছে। এটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু এদেরকে কী কারণে বহিস্কার করা হচ্ছে, তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। শিল্পীদের কাজ সিনেমা করা। এসব কাদা ছোড়াছুড়ি না করে নিজেরা বসে সমাধান করাই মঙ্গল।
কিন্তু অনেক প্রযোজক আর পরিচালক বলছেন, এর আগে শাকিব খানের বহিস্কারের ঘটনায় আপনি সর্মথন জানিয়েছিলেন...
শাকিব খানকে বহিস্কারের দাবি করিনি। বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আলমগীর সাহেব [অভিনেতা] বহিস্কারের কথা বলেছিলেন। কিন্তু আমি বলেছিলাম, ১৮ সংগঠনের কেউ শাকিবের সঙ্গে কাজ করবে না। যারা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে, তারা কাজ না করলেই হলো। কিন্তু শাকিব তার পছন্দমতো অন্য কোথাও কাজ করতে পারবে। তাহলে আমি বহিস্কারের কথা কীভাবে বললাম? একটা বিষয় সবার বোঝা উচিত, বর্তমানে শাকিব-মিশা ছাড়া ইন্ডাস্ট্রি কীভাবে এগোবে। তাই এখন যদি দুটি ঘটনাকে এক করে ফেলা হয়, সেটি দুঃখজনক। খসরু আমার ছোট ভাই, তাই চাইছি সে যেন বিষয়টি বিচার-বুদ্ধি নিয়ে বিবেচনা করে। অন্যের কথায় মন্তব্য করা উচিত নয়।
এফডিসিতে বাণিজ্যিক ভবন স্থাপন নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
বিষয়টিকে যৌক্তিক মনে করি। ষাটের দশকে সিনেমার জন্য এই ভবনগুলো ঠিক ছিল। এখন অত্যাধুনিক শুটিং ফ্লোর দরকার। অনেক বছর ধরে এফডিসি ভর্তুকি দিয়ে চলছে। এই ভবনের মাধ্যমে এফডিসির আর্থিক আয়ের সুযোগ তৈরি হবে, বিষয়টা তো ইতিবাচক। তবে আমার প্রত্যাশা থাকবে এই ভবনটিতে শিল্পীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে নায়ক শাকিব খান কে একবার বহিষ্কার করা হয়। তবে আবার সব কিছু মিটে যায়। আর বর্তমানে দেশের বেশ কয়েটি সংগঠন বর্তমান সমিতির পদত্যাগের কথা বলে আসছে। আর এই বিষয় নিয়ে বর্তমানে দেশের অনেক অভিনেতা-অভিনেত্র কথা বলছেন। অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী আন্দোলনকারীদের পক্ষে কথা বলছেন। তবে অনেক আবার বর্তমান সমিতির পক্ষে কথা বলছেন। আর এবার এই সম্পর্কে এই সকল কথা বলেছেন অভিনেতা ফারুক।