বাংলাদেশের দুই তরুণ চলচ্চিত্রকার আরিফুর রহমান ও রেজওয়ান শাহরিয়ার হলিউডের চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে কাজের সুযোগ পেলেন। তাঁরা ফিল্ম ইনডিপেনডেন্টের গ্লোবাল মিডিয়া মেকারের আয়োজনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছেন। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের ব্যুরো অব এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্স এতে সহযোগিতা করছে।
৪২ দিন ধরে এই আয়োজনে সেখানে আমেরিকার নামকরা সিনেমা পরিচালক, প্রযোজক ও ব্যবসায়ীদের তত্ত্বাবধানে সিনেমা নিয়ে কর্মশালা করানো হবে। আয়োজনটি লস অ্যাঞ্জেলেসে ১ অক্টোবর শুরু হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ সৌদি আরব, তুরস্ক ও লেবানন থেকে ১৮ জন তরুণ চলচ্চিত্রকারকে মনোনীত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রযোজক হিসেবে আরিফুর রহমান ও চিত্রনাট্যকার–পরিচালক হিসেবে রেজওয়ান শাহরিয়ারসুযোগ পেয়েছেন। নির্বাচিত দুজন বছরব্যাপী ফেলোশিপ প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হলেন। আছে ছয় সপ্তাহ লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকার সুযোগ।

এই তরুণদের চলচ্চিত্র তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আছেন হলিউডের নামকরা সব পরিচালক, প্রযোজক ও চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ। এ আয়োজনে চিত্রনাট্য লেখা, প্রযোজনা ও প্রামাণ্যচিত্রের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া নেটফ্লিক্স, স্টেজ ১৩, ওয়ার্নার ব্রাদার্স, অ্যারি, এইচবিওর মতো নামকরা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখার সুযোগ হবে। রেজওয়ান শাহরিয়ার বলেন, ’আমি খুবই আগ্রহী মেন্টরশিপ প্রোগ্রামটাতে। এতে অনেকের সঙ্গে মেশার সুযোগ থাকছে। আছে তিনটি শাখায় কর্মশালা। আমি নির্বাচিত হয়েছি চিত্রনাট্য শাখায়। এখানে ভিআর (ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি) আর মোবাইলে সিনেমা নির্মাণ কর্মশালা করানো হবে। ওখানকার একটা ভিআর কোম্পানি আর কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে দিয়ে এটি করানো হবে।’

নোনা জলের কাব্য সিনেমাটি বানিয়েছেন রেজওয়ান। সিনেমাটি বিভিন্ন উৎসব ঘুরছে। শিগগির দেওয়া হবে মুক্তি। আ নিউ প্রফেট প্রকল্পটি তিনি নিয়ে যাচ্ছেন। আরিফুর রহমান প্রযোজিত রোকাইয়া ছবিটি কিছুদিন আগে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে উদ্বোধনী প্রদর্শন করা হয়।
লস অ্যাঞ্জেলেসে আরিফ তাঁর চলচ্চিত্র প্যারাডাইস নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, এটা একজন তরুণ চলচ্চিত্রকারের জন্য যেমন অসাধারণ সুযোগ একই সাথে অনেক সম্মানের। কারণ হিসেবে তিনি জানান, এখানে সরাসরি আবেদন করা যায় না। সারা বিশ্ব থেকে চলচ্চিত্রকারেরা তরুণ চলচ্চিত্রকারদের মধ্য থেকে যাঁদের মনোনীত করেন, একমাত্র তারাই এখানে সুযোগ পেয়ে থাকেন।

আরিফুর রহমান ’মাটির প্রজার দেশে’ সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন।