দিলশাদ নাহার কনা একজন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী।নিজের প্রথম একক অ্যালবাম ’জ্যামিতিক ভালোবাসা’র টাইটেল গানটির মাধ্যমেই কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আলোচনায় এসেছিলেন সুকণ্ঠী গায়িকা কনা। এরপর একে একে আরও দুটি একক অ্যালবামের মাধ্যমে বেশ কিছু হিট গান উপহার দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি একটি জাতিয় দৈনিকে বিশেষ সাক্ষাতকারে নিজের জীবনের প্রথম দিকের শিল্পি মনের অনুভুতি প্রকাশ করেন।
পাঠকদের উদ্দেশ্যে তার সেই সাক্ষাতকার হুবহু তুলে ধরা হলো :-



জীবনে প্রথম অ্যালবাম বেরুনোর মজাটাই অন্যরকম। স্মৃতিগুলো চোখের সামনে এখনও ভেসে বেড়ায়। অ্যালবাম বেরুবে এই উত্তেজনায় রাতে ঘুমই হতো না। যে রাস্তায় নিজের গানের পোস্টার লাগান থাকত রিকশা নিয়ে বারবার সেই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করতাম।

নিজের পোস্টারের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। মাঝে মধ্যে রিকশাওয়ালাকেও বলতাম, মামা, গানটি শুনবেন কিন্তু। গানের ডিটেইলস বলে দিতাম। দোকানে গিয়ে গিয়ে বলতাম, মামা এই পোস্টারটা লাগান না একটু। এভাবে নিজের অ্যালবামের পোস্টার লাগাতে বলতাম।

কোনো দোকানে গিয়ে বলতাম, এই গানটি বাজান না একটু। আমরা সবাই শুনি। এভাবে নিজের গান নিজে শুনতে রিকোয়েস্ট করতাম। বড় বড় শপিংমলে বা রেস্টুরেন্টে নিজের গান শোনার আনন্দ অনেক।

আমার খুব ক্লোজ বান্ধবী লিজা। সে দেশের বাইরে থাকে। ২০০৬ সালের দিকে লিজা একবার দেশে এলো। তাকে নিয়ে চলে গেলাম শপিংমলে। দোকানে নিয়ে নিয়ে নিজের পোস্টার দেখালাম।


সে তো অবাক। বলে, তোর এতো পরিচিতি! তোর তো সেইরকম ডিমান্ড হয়ে গেছে দেখছি। কিন্তু তোর এতো পোস্টার দেখছি অথচ একজন মানুষও তো সামনে এসে বলল না তুই কনা। তুই গান করিস। এটা খারাপ লাগছে।

লিজার কথা শুনে নিজের কাছে তখন একটু খারাপ লেগেছিল। চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে লিজাকে নিয়ে নিচের দিকে নামছি। পাশে দু’জন ছেলে বলল, এই দেখ কনা। গান গায়। কথাটি শোনার পর লিজা জোরে চিৎকার দিল।

বলল, দোস্ত তোকে সবাই চেনে। তখনকার ব্যাপার আর এখনকার ব্যাপার পুরোটাই ভিন্ন রকমের হয়ে গেছে। এখন মনে করুন কোনো বুটিক হাউসে গিয়েছি। আমাকে দেখে তারা গান বাজান শুরু করে দেয়।

ভীষণ লজ্জা লাগে নিজের কাছে। আবার মনে করুন কোনো রেস্টুরেন্টে গিয়েছি। আমাকে দেখে গান বাজান শুরু করে দেয়। বক্সে গান বাজছে। তড়িঘড়ি করে খেয়ে বেরিয়ে পড়ি। কেন জানি এখন লজ্জা লাগে।

কয়েক দিন আগে একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছি। পরিচিত ও অপরিচিত অনেকেই আছেন। অনেকে গান করছেন। কৌতুক করছেন। আমি মজা দেখছি। এক মেয়ে কাছে এসে বলল, এই কনা আপু।

আপনি গান করেন। ধিম তানা গানটি আমি রেগুলার শুনি। আমি নিজেও গান করি। আজ আপনার এই গানটি গাইব। তারপর সে স্টেজে ধিম তানা গান শুরু করল। আমার লজ্জাই লাগল। মনে হল সে আমাকে দেখেই গান করছে। বাস্তবে আমার গান শোনেই না! হাঃ হাঃ হাঃ...!

যা কখনও বলা হয়নি

* নিজেকে আমি বুদ্ধিমান মনে করি না, কারণ আমি তো বুদ্ধিজীবী না।

* ভাবতে অবাক লাগে একদিন আমিও বুড়ি হব!

* গায়িকা না হলে যা বিজ্ঞানের শিক্ষক হতাম। পেয়ারা গাছের ঢাল ভেঙে ছাত্র-ছাত্রীদের পিটাতাম। প্রতিশোধ নিতাম। কারণ আমার সঙ্গেও একই আচরণ করা হয়েছে।

* স্টেজ শোতে গান করে অনেককে সরাসরি নাচাই। আর সিনেমায় গান করে হিরো-হিরোইনদেরও নাচিয়ে থাকি।

* ছোটবেলা থেকেই আমি সাজগোজ করতে পছন্দ করতাম। কেউ ছবি তুলতে চাইলে দ্রুত ঠোঁটে লিপস্টিক লাগিয়ে দাঁড়িয়ে পড়তাম।


উল্লেখ্য, মাত্র চার বছর বয়সেই গানের সঙ্গে পরিচিতি ঘটে তাঁর। ’আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে’ গানটি শেখার মধ্য দিয়েই কনার গানের ভুবনে পা রাখা। আনুষ্ঠানিকভাবে তার কণ্ঠে গাওয়া প্রথম গানটি ছিল ’গ্রামছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ’। জীবনের প্রথম কোনো গানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এ শিল্পী দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন, আর তাও মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। কনা তার সঙ্গীত জীবন শুরু করেন ২০০০ সালে। কনার প্রথম এলবাম ’জ্যামিতিক ভালবাসা’, যা বের হয় ২০০৬ সালে। তার দ্বিতীয় একক এলবাম ফুয়াদ ফিচারিং কনা বের হয় ২০০৮ সালে "কনা" নামে। তার তৃতীয় একক এলবাম "সিম্পলি কনা" বের হয় ১৮ আগস্ট ২০১১ তে।