বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) শহীদ মুখতার ইলাহী হলের ডাইনিং থেকে চাঁদা না পেয়ে এবার হলের এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল ইসলাম জয়ের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় শহীদ মুখতার ইলাহী হলের ডাইনিং থেকে চাঁদা না পেয়ে কর্মচারী জাকির হোসেনকে মারধর করেন ওই হলে অবৈধভাবে বসবাস করা ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল ইসলাম জয়। এ ঘটনায় শুক্রবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাইনিং বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ডাইনিং কর্মচারীরা। এতে বিপাকে পড়েছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ডাইনিং কর্মচারী সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও হলে শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহের আগেই জয়ের কক্ষে খাবার পৌঁছে দেয় ডাইনিং কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই বৃহস্পতিবার রাতে ডাইনিং বন্ধের সময় জয় ডাইনিং ক্যাশিয়ার কমলকে খোঁজ করে না পাওয়ায় ডাইনিং কর্মচারী জাকিরকে বেধড়ক মারধর করেন।
এ সময় কেন মারধর করা হচ্ছে জানতে চাইলে আবারও মারধর করেন জয়। ঘটনার পর জয় নিজেই ডাইনিং কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। ডাইনিং বন্ধ থাকার কারণে বিপাকে পড়েছেন প্রায় পাঁচশ শিক্ষার্থী।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি দৈনিক সংবাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আল-আমীন হোসেন ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি সৌম্য সরকার হলের বৈধ আসনে উঠতে গেলে জয়ের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয় তাদের। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক আল আমিন হোসেন তাজহাট থানায় মামলাও করেন। যার তদন্ত চলমান রয়েছে।
একই ঘটনায় গত ৩১ জানুয়ারি শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ফেরদৌস রহমানকে আহ্বায়ক, সহকারী প্রক্টর ছদরুল ইসলাম সরকারকে সদস্য সচিব এবং ওই হলের সহকারী প্রভোস্ট ড. রশিদুল ইসলামকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা করার কথা থাকলেও আজও তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি বলে কমিটি সূত্র জানায়।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতারা জানান, হল প্রশাসন জয়ের ব্যাপারে সবই জানেন কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেন না। তবে জয়ের এমন আচরণে বিরক্ত সংগঠনটির নেতাকর্মীরাও।
অপরদিকে জয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে ডাইনিং কর্মচারীদের চাকরি থাকবে না এমন আশংকায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করার সাহস পাননি ভুক্তভোগী ডাইনিং কর্মচারী জাকির।
জাকির হোসেন বলেন, ছাত্রলীগ নেতা জয় ডাইনিং ক্যাশিয়ারকে খুঁজছিলেন। তাকে না পেয়ে আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই এলোপাথাড়ি মারধর করেন।
তবে চাঁদা দাবির করা হয়েছিল কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনা সত্য। কিন্তু এ ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশ না করতে এই প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন তিনি।
চাঁদা না পেয়ে কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিষয়টা অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল ইসলাম জয় বলেন, এটা ভুল বোঝাবুঝি। বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে হলের প্রভোস্ট মো. ফেরদৌস রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
-জাগো নিউজ