দেশের করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। এমনকি বর্তমানে দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপশি রাজনৈতিক ব্যক্তিরা করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে। তবে দেশে যতই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে দেশের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে ততোই নানা রকম অভিযোগ উঠে আসছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থাকে প্রায় সময় অভিযোগ উঠছে যে করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তি সঠিক সময় চিকিৎসা সেবা না পেয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। এছাড় অনেক হাসপাতালে আইসিইউ সেবা পাওয়া বর্তমানে অনেক দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এই আইসিইউ এর সেবা পাওয়ার জন্য রোগীরা এক রকম যু’দ্ধ করছে। তবে এরপারও আইসিইউ সেবা না পেয়ে অনেকে না ফেরার দেশে চলে যায়। আর এবার তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছে।


তিন দিন ধরে আইসিইউর জন্য হন্য হয়ে ঘুরেও শেষ পর্যন্ত আইসিইউ না মেলায় বাঁচানো গেল না করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সীতাকুণ্ডের আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহআলমকে। শনিবার রাত ১১টায় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃ’’ত্যু হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহআলম বেশ কিছুদিন ধরে জ্বর ও শ্বা’স কষ্টে ভুগছিলেন। বাড়িতে চিকিৎসায় তার উন্নতি না হওয়ায় গত বুধবার তাকে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে অক্সিজেন সার্পোটে রেখে তার চিকিৎসা চলছিলো।

বৃহস্পতিবার তার করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকালে তার করোনা প্রজেটিভ বলে জানায় ডাক্তাররা। এ সময় তার পরিবার তাকে বিআইটিআইডি হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তার মৃ’’ত্যু হয়।

ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহআলমের চিকিৎসাকালীন সময়ে তাঁর সাথে থাকা ঘনিষ্ট বন্ধু মোঃ নাসির সাংবাদিকদের জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শ্বা’সকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকায় তাকে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করাই আমরা। এরপর গত তিন দিন ধরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আইসিইউ সাপোর্ট চেয়ে অসংখ্য বেসরকারী হাসপাতালে ঘুরেছি। কিন্তু তখনো করোনার নেগেটিভ কোন রিপোর্ট না আসায় কেউ তাকে ভর্তি নিতে রাজি হয়নি। শনিবার সকালে চিকিৎসকরা জানান তার করোনা প্রজেটিভ এসেছে। তখন আমরা আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে সীতাকুণ্ডের ডাক্তার আশুতোষ নাথের সাথে কথা বলে সেখানে নিয়ে ভর্তি করাই। কিন্তু সেখানেও আইসিইউ খালি ছিলো না।

এভাবে আইসিইউ না পাওয়ায় তিনি পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাচ্ছিলেন না। এভাবে শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে রাত ১১টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সূত্র:কালের কন্ঠ

এদিকে, এই নেতার এভাবে প্রাণ যাওয়ার পর ওই এলাকার অনেক নেতা শোক প্রকাশ করেছেন। তবে দেশে যখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে ঠিক সেই সময় স্বাস্থ্য খাত নিয়ে নানা রকম অভিযোগ উঠে আসছে। এমনকি প্রায় সময় অভিযোগ ওঠে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের সাথে ভালো ব্যবহার করা হয় না হাসপাতাল থেকে। এছাড়া অনেক হাসপাতালে আইসিইউ সেবাও অনেক কম। যার কারণ অনেক রোগীর আইসিইউ সেবা প্রয়োজন হলেও তা পান না। আর এ কারণে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজন ব্যক্তির প্রাণ গিয়েছে। আর এবার এই রাজনৈতিক ব্যক্তি আইসিইউ এর সেবা না পেয়ে প্রাণ হারালেন।