করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও প্রাণ যাওয়ার সংখ্যা দেশে বেড়েই চলেছে। তবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও প্রাণ যাওয়ার সংখ্যা যতই বাড়ছে দেশের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে ততই নানা রকম অভিযোগ উঠে আসছে। এমনকি করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়েও অনেক মানুষ নানা রকম হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। এছাড়া করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করার পর সেই রিপোর্ট পেতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে বলেন অনেকে। আর এবার করোনা ভাইরাসের নমুনার রিপোর্ট দেওয়ার দিনই এক ব্যক্তির প্রাণ গেল।


করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে নমুনা সংগ্রহের তিনদিন পর আজ শনিবার রিপোর্ট আসার কথা ছিল প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান সাদেকের (৫২)। রিপোর্ট আসার আগেই আজ ভোররাতে করোনার উপসর্গ নিয়ে মা’রা গেলেন তিনি।

জানা যায়, মো. হাবিবুর রহমান সাদেক নিকলী উপজেলার বড়কান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি উপজেলা করোনা প্রতিরোধ টিমের স্বেচ্ছাসেবকও ছিলেন। বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বর ও সর্দিতে ভুগছিলেন তিনি। গত বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তার নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে।

আজ শনিবার সেই নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসার কথা ছিল। রিপোর্ট আসার আগেই নিজ বাড়িতে ভোররাতে মা’রা যান তিনি।

আজ দুপুরে পুলিশের সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামছুদ্দিন মুন্না করোনা প্রতিরোধ টিমের পাঁচজন সদস্য নিয়ে ওই প্রধান শিক্ষকের জানাযা ও দাফন সম্পন্ন করেন।

মো. হাবিবুর রহমান সাদেক উপজেলায় সর্বপ্রথম ব্যাক্তি উদ্যোগে নিজ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করেছিলেন।



এদিকে, দেশে প্রায় সময় অভিযোগ উঠছে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করতে দেওয়ার পর সেই নমুনার রিপোর্ট পেতে অনেক দেরি হচ্ছে। আর এ কারণে ওই ব্যক্তির মাধ্যমে অন্যদেরও করোন আভইরাস ছড়াচ্ছে মনে করেন অনেকে। এমনকি করোনা ভাইরাসের রিপোর্ট পাওয়ার আগেই অনেকের প্রাণ যায়। আর এবার তেমনই এই শিক্ষকের প্রাণ গেল। এদিকে, স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছে প্রতিদিন অনেক মানুষ করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করতে আসে। আর এ কারণে করোনার রিপোর্ট দিতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে যারা করোনার নমুনা পরীক্ষা করতে আসে তাদেরকে আলাদা থাকার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।