প্রেমের টানে প্রায় সময় বিদেশ থেকে অনেক তরুণ-তরুণী দেশে এসেছেন। এই সকল তরুণ-তরুণীরা বেশির ভাগ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যানে পরিচিত হন। এরপর তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে হঠে এবং একটা সময় প্রেমের সম্পর্ক হয়। এবার তেমনই এক তরুণী প্রেমের টানে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন। এই তরুণী কলকাতার বেলুর থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। তার নাম সুস্মিতা। এননি তিনি বাংলাদেশ আসতে পাসপোর্ট ও ভিসা গ্রহণ করেনি। তিনি যশোরের বেনাপোল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন।
জানা যায়, ৪ বছর আগে ফেসবুকে পরিচয় হয় মো. খাইরুলের। স্বরূপকাঠী উপজেলার মাহমুদকাঠী সোলায়মানের ছেলে খাইরুল। খাইরুল তার বাবা সাথে কুমিল্লায় খাবার হোটেলের ব্যবসা করেন। সেখানে বসেই দু’জনের সাথে ফেসবুক থেকে পরিচয়। দীর্ঘ ৪ বছর বার্তা আদান প্রদানের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গভীর প্রেমে রূপ নেয়।

সুস্মিতার বাবা মা মেয়ের বিয়ে ঠিক করলে সেখান থেকে পালিয়ে চলে আসেন বাংলাদেশে। বেলুর থেকে বেনাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে ঢাকার গাবতলীতে আসেন। আগে থেকেই অপেক্ষারত সুস্মিতাকে নিয়ে কুমিল্লায় যান খাইরুল। সেখানেই দু’জন ৪ দিন অবস্থান করেন। এরপর কুমিল্লায় আর থাকতে না পেরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানেও ৩ দিন অবস্থান করেন।

এ বিষয়ে খাইরুলের মা বলেন, ছেলের সাথে সুস্মিতার ফেইসবুকে পরিচয়। বাড়ি কলকাতার বেলুরে। আমরা তার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলেছি। তারা বলে মেয়েকে জিজ্ঞেস করেন, যদি আসতে চায় তাহলে আমরা গিয়ে নিয়ে আসবো।

সুস্মিতার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, না আমি কলকাতা আর ফিরে যাবো না, আমি এখানে থাকবো। আমি আমার ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম হতে চাই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে আমি খাইরুলের কাছে থেকে সবকিছুই জেনেছি, শুনেছি। তাছাড়া খাইরুলের পরিবার সম্পর্কে সবকিছু জেনেই আমি বাংলাদেশে এসেছি। আমি খাইরুলকে বিয়ে করতে চাই, কলকাতায় ফিরতে চাই না।

উল্লেখ্য, এর আগেও অনেক তরুণী প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসেছেন। তবে এবার সুস্মিতা নামের এই তরুণী দেশে আসায় বেশ আলোচনা দেখা দিয়েছে। কারণ হিসেবে অনেকে মনে করেন তিনি কোনো পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া কিভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করলেন। এদিকে, এই তরুণীকে দেখতে মো. খাইরুলের বাসায় বিভিন্ন মানুষ আসছেন। ওই এলাকার বিভিন্ন মানুষ এখন এই কলকাতারর তরুণী সুস্মিতাকে নিয়ে নানা রকম কথা বলছেন।