নানির ভিক্ষার জমানো টাকা নিয়ে নাতিকে মুক্তি দেয়ার অভিযোগে ভৈরব থানার সেই অভিযুক্ত এএসআই মাজাহারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে তাকে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ।

নানির ভিক্ষার টাকায় পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পেল নাতি শিরোনামে অনলাইনে নিউজ শুক্রবার প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বিষয়টি পুলিশ সুপারের নজরে আসে। এছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমে শনিবার সংবাদ প্রকাশিত হয়।

অভিযোগের সত্যতা পেয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ সেই এএসআইকে শনিবার দুপুরে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহারের লিখিত আদেশের বার্তা পাঠান ভৈরব থানায়।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে শহরের নিউটাউন এলাকায় নিজ বসতঘর থেকে মাদকের অজুহাতে জুয়েল নামে এক রিকশাচালককে ধরে নিয়ে যান এএসআই মাজাহার। তাকে থানায় নয়, বরং থানার পেছনে গোপনে আটক করে রাখা হয় একটি রান্নাঘরে। পরে আটক জুয়েলকে ছাড়িয়ে নিতে হলে স্বজনদের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন ওই এএসআই। দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করা না হলে ৫২টি ইয়াবা দিয়ে চালান করার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ উঠে এএসআই মাজাহারের বিরুদ্ধে। ঘটনার দিন মঙ্গলবার রাতে আটক জুয়েলকে ছাড়িয়ে নিতে মা জরিনা বেগম ও অন্ধ নানি জোসনা বেগম ওই এএসআইয়ের সাথে দেখা করে তার হাতে পায়ে ধরেন জুয়েলকে ছেড়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু টাকা ছাড়া পুলিশের মন গলেনি। শেষ পর্যন্ত রাত ৯টার দিকে জুয়েলের অন্ধ নানি জোসনা বেগমের ভিক্ষার পাঁচ হাজার টাকা ও ঘরের জিনিস বিক্রি করে ১৩ হাজারের মধ্যে ১১ হাজার টাকা ওই এএসআইকে দিলে আটক নাতিকে রাতেই ছেড়ে দেয়া হয়। পরের দিন বাকি দুই হাজারও ভুক্তভোগী পরিবার পরিশোধ করে।