বাবার সাথে ভারতে বেড়াতে গিয়েছিলো রাজশাহীর অপ্রাপ্তবয়স্ক সোয়াদ খাতুন। সেখানে সকলের অজান্তে গোপনে চাচাতো ভায়ের সাথে বিয়ে। ফলাফল প্রাপ্ত বয়স না হওয়ায় ভারতীয় আইনে সাজা। সোয়াদা খাতুনের জায়গা হয় সেভহোমে। সেই সেভহোমেই সন্তানের জন্মদান। নাম রাখা হয় সাইফ। সম্প্রতি ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে সোয়াদ খাতুনের। ভারতীয় আদালতের নির্দেশে তাই সন্তানসহ দেশে পাঠানো হয়েছে সোয়াদ খাতুনকে।
রবিবার (৯ জুন) বিকালে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সোয়াদ খাতুনকে দেশে পাঠানো হয়। তাকে গ্রহণ করেন বাবা সোহেব আলী।

বিজিবি জানান, ২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলার মতিহার উপজেলার ধরমপুর গ্রামের সোহেব আলী তার মেয়ে সোয়াদ খাতুন (১৬) নিয়ে ভারতে বেড়াতে যান। সেখানে অবস্থানকালে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার হরিহরপুর থানার কেদারতলা গ্রামের বাসিন্দা চাচাতো ভায়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সোয়াদ খাতুনের। এরপর গোপনে বিয়ে করে বসে তারা। পরিবারের অমতে বিয়ে তারপর আবার অপ্রাপ্ত বয়সে। বিরোধ দেখা দেয় দুই পরিবারের। সোয়াদও স্বামী ফেলে দেশে ফিরতে নারাজ। রাগে-ক্ষোভে মেয়েকে ভারতে রেখেই দেশে ফিরে আসেন বাবা সোহেব আলী। অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে করার বিষয়টি শেষমেষ গড়ায় আদালত পর্যন্ত। পরে ভারতীয় আদালতের নির্দেশে ১৬ বছর বয়সী সোয়াদের জায়গা হয় সেভহোমে। সেখানেই এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন সোয়াদ। তার নাম রাখা হয় সাইফ। সাইফের বয়স বর্তমানে ১৮ মাস।

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লে. কর্নেল ইমাম হাসান জানান, ভারতের সেভহোমে থাকা বাংলাদেশি সোয়াদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয় সম্প্রতি। বয়স পূর্ণ হওয়ায় আদালত তাকে দেশে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সাথে সকল ক্ষোভ ভুলে সোয়দের বাবা মেয়েকে ফেরত চেয়ে আবেদন করেন। শুরু হয় তাকে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া। সকল প্রক্রিয়া শেষে রোববার বিকালে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকের পর সোয়াদ তার শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। বিজিবির মাধ্যমে তাকে গ্রহণ করেন বাবা সোহেব আলী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দর্শনা বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলাদার জাহাঙ্গীর আলম ও ভারতের গেদে ক্যাম্পের বিএসএফ কমান্ডার এসি শুরেন্দ সিং।

সূত্র:-আমাদেরসময়/ আস্থা